ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা গত ২০ জুলাই থেকে সৌদি আরবের ৪৮টি তেলবাহী জাহাজের চলাচল ঠেকানোর দাবি করেছে। একই সময়ে আটটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে তারা।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে এসব দাবি করেন।
তিনি বলেন, সৌদি আরবের সমুদ্রপথে চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর থেকে হুতিরা আটটি সৌদি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর মধ্যে পাঁচটি লোহিত সাগরে এবং তিনটি এডেন উপসাগর ও আরব সাগরে ছিল।
সারি আরও দাবি করেন, হুতিরা ৪৮টি সৌদি তেলবাহী জাহাজকে আটকে দিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। এর মধ্যে ৩৪টি ছিল আরব সাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় এবং ১৪টি লোহিত সাগরে।
সৌদিতে ৯ ও সামরিক স্থাপনায় ১৪ অভিযান
হুতি মুখপাত্রের দাবি, সৌদি আরবের ইয়ানবু, নাজরান, জিজান ও আবহা এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের তেল সরবরাহকে লক্ষ্য করে তারা নয়টি সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
এ ছাড়া আল-রুওয়াইক, আল-আবর, আল-ওয়াদিয়াহ, মারিব ও আল-মাখা এলাকায় সৌদি সামরিক উপস্থিতি ও সমরসজ্জাকে লক্ষ্য করে আরও ১৪টি অভিযান চালানোর দাবি করেন তিনি।
সারি বলেন, হুতিদের এই পদক্ষেপের পেছনে তিনটি ‘সমীকরণ’ রয়েছে—একটি অবরোধের জবাবে পাল্টা অবরোধ, সৌদি সামরিক সমরসজ্জা যেখানেই থাকুক সেখানে হামলা এবং ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা।
সৌদি আরবকে আরও উত্তেজনা না বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “যেকোনো ব্যাপক উত্তেজনার জবাব ব্যাপক উত্তেজনার মাধ্যমেই দেওয়া হবে।”
সৌদির কাছে হুতিদের দাবি
ইয়াহিয়া সারির ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সৌদি আরবের সামনে একমাত্র পথ হলো—অবরোধ তুলে নেওয়া, আগ্রাসন বন্ধ করা, সরকারি কর্মীদের বেতন পরিশোধ করা, বিদেশি বাহিনী প্রত্যাহার করা এবং ইয়েমেনের সম্পদ ইয়েমেনের জনগণের হাতে ছেড়ে দেওয়া।
তবে হুতিদের এসব দাবি ও সামরিক অভিযানের বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


