কাতারের দোহায় গাজা যুদ্ধ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরাইল। হামলায় ছয়জন নিহত হন। তবে ইসরাইল এই প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে হামাস নেতাদের হত্যার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তা নয়। বিদেশে ফিলিস্তিনিদের হত্যা চেষ্টার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ইসরাইলের। কয়েক দশক ধরে ইসরাইলের এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং একাধিক কূটনৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছে।
১৯৭০-এর দশক থেকে বিদেশে ইসরাইল যেসব ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে বা হত্যার চেষ্টা করেছে তার কিছু বর্ণনা তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।
২০০০-এর দশক:
৩১ জুলাই ২০২৪, ইরানের তেহরানে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর তৃতীয় চেয়ারম্যান ইসমাইল হানিয়াকে হত্যা করে ইসরাইল।
২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি লেবাননের বৈরুতে হামাসের শীর্ষ নেতা সালেহ আল-আরৌরিকে হত্যা করা হয়। ১৮ বছর ইসরাইলি কারাগারে বন্দি থাকার পর সেখানে নির্বাসনে ছিলেন তিনি। ২০১৭ সাল থেকে ইসরাইলি হামলায় নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং আল-কাসেম ব্রিগেডের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন তিনি।
জানুয়ারি ২০১০, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি হোটেলে হামাস নেতা মাহমুদ আল-মাবুহকে হত্যা করে ইসরাইল। তার বিরুদ্ধে আল-কাসেম ব্রিগেডের জন্য অস্ত্র সংগ্রহের অভিযোগ করে ইসরাইল।
২০০৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সিরিয়ার দামেস্কে তার গাড়িতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে মারা যান ইজ্জ আল-দীন শেখ খলিল । এ হামলার পেছনেও ইসরাইলের হাত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
১৯৯০ এর দশক:
২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭, জর্ডানে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর দ্বিতীয় চেয়ারম্যান খালেদ মেশালকে হত্যার চেষ্টা করে ইসরাইল, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনার জন্ম দেয়।
মেশালের নেতৃত্বে ২০০৬ সালে গাজায় ফিলিস্তিনি আইনসভা নির্বাচনে হামাস সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন জিতেছিল। ২০১৭ সালে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মেশাল হামাসের পলিটব্যুরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং বিদেশে সংগঠনের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান হন।
১৯৮০ এর দশক:
১৯৮৮ সালের এপ্রিলে আরেক হামাস নেতা খলিল আল-ওয়াজিরকে তিউনিসিয়ায় হত্যা করে ইসরাইলের কমান্ডোরা। তিনি আবু জিহাদ নামেও পরিচিত। তিনি ছিলেন ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থার (পিএলও) সামরিক প্রধান এবং ইয়াসির আরাফাতের সহকারি। তিনি ১৯৫০ এর দশকে পিএলওর বৃহত্তম উপদল ফাতাহ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিলেন। ২০১২ সাল পর্যন্ত ইসরাইল দায় স্বীকার করেনি।
১৯৮৬ সালের ৯ জুন গ্রিসের এথেন্সের একটি হোটেলের বাইরে মোসাদ এজেন্টরা পিএলও নেতা খালেদ নাজ্জালকে গুলি করে হত্যা করে।
এছাড়া ১৯৮৫ সালের ২ অক্টোবর তিউনিসিয়ার তিউনিসে পিএলও সদর দপ্তরে বোমা হামলা চালায় ইসরাইল। এতে নারী ও শিশুসহ ৬০ জন নিহত হন।
২১ আগস্ট ১৯৮৩, পিএলও কর্মকর্তা মামুন মারাইশকে গ্রিসের এথেন্সে গুলি করে হত্যা করে দুই ইসরাইলি এজেন্ট।
১৯৭০ এর দশক:
১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে ‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর’ সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা আলি হাসান সালামেহকে বৈরুতে একটি গাড়ি বোমা হামলায় হত্যা করে মোসাদের গুপ্তচররা।
১৯৭৩ সালের জুন, পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনের (পিএফএলপি) সিনিয়র সদস্য মোহাম্মদ বৌদিয়াকে প্যারিসে গাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হত্যা করে।
১১ এপ্রিল ১৯৭৩, ফাতাহ প্রতিনিধি জাইয়াদ মুচাসি এথেন্সে তার হোটেল কক্ষে বোমা হামলায় নিহত হন।
১৯৭২ সালের ১৬ অক্টোবর ফাতাহ মুখপাত্র আবদেল ওয়ায়েল জাওয়াইতারকে ইতালির রোমে তার দরজার সামনে একাধিকবার গুলি করে হত্যা করা হয়।
এছাড়া, ১৯৭২ সালে ফিলিস্তিনি লেখক এবং পিএফএলপির নেতা গাসান কানাফানি লেবাননের বৈরুতে ইসরাইলের গাড়ি বোমা হামলায় নিহত হন।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



