গাজায় প্রতিদিন বাড়ছে অনাহারে মৃতের সংখ্যা। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ইসরাইলের চলমান অবরোধে অনাহারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এদেরমধ্যে বেশিরভাগই শিশু। খবর আল জাজিরার।
ইসরাইল মার্চ মাসে গাজায় পুরোপুরি অবরোধ আরোপ করে। মে মাসের শেষের দিক থেকে এই অঞ্চলে খুবই সামান্য পরিমাণ ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে দখলদার দেশটি। যার ফলে ভয়াবহ মানবিক সংকট এবং ব্যাপক দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে, জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ সতর্ক করে বলেছে, ক্ষুধা সংকটে পরিবারগুলোর করুণ অবস্থা।
সংস্থার প্রধান ফিলিপ লাজারিনি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, বাবা-মায়েরা এতোবেশি ক্ষুধার্ত ও রোগা হয়ে পড়েছেন যে, সন্তানের যত্ন নেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এরআগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এই বছর এখন পর্যন্ত অপুষ্টিতে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী ২১ জন শিশু রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে প্রায় ৮০ দিন ধরে তারা কোনো খাবার সরবরাহ করতে পারেনি।
এক বিবৃতিতে, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল মার্সি কর্পস এবং রিফিউজি ইন্টারন্যাশনালসহ ১১১টি সংস্থা বলেছে, গাজার ঠিক বাইরে, টন টন খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুদ থাকা সত্ত্বেও ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ছে। কারণ ইসরাইল এসব ত্রাণ গাজায় ঢুকতে দিচ্ছে না।
একদিকে অনাহার অন্যদিকে চলছে ইসরাইলের হামলা। গাজায় ইসরাইলি হামলায় একদিনে আরো ৮৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাড়ে চার শতাধিক মানুষ। এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলের সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা ৫৯ হাজার ৫৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



