যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইনস হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর শনিবার অন্যান্য মার্কিন এয়ারলাইনস যাত্রী ও কর্মীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে।
ঋণদাতা ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর স্পিরিট জানায়, তারা ‘তাৎক্ষণিকভাবে বৈশ্বিক কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে।’ ফলে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং গ্রাহকসেবা বন্ধ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকান এয়ারলাইনস, ডেল্টা এয়ারলাইনস, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস এবং জেটব্লু দ্রুত স্পিরিটের যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। অনেকেই ‘রেস্কিউ ফেয়ার’ বা বিশেষ ছাড়মূল্যের টিকিট অফার করছে।
কিছু এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তারা স্পিরিটের শক্তিশালী উপস্থিতি থাকা বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াবে বা বড় আকারের বিমান পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে, স্পিরিটের আটকে পড়া কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
২০২৪ সাল থেকে একাধিকবার দেউলিয়া হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল স্পিরিট। সম্প্রতি হোয়াইট হাউস তাদের জন্য একটি সহায়তা প্যাকেজ বিবেচনা করছিল।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘তেলের দামের সাম্প্রতিক বড় বৃদ্ধি এবং অন্যান্য ব্যাবসায়িক চাপ আমাদের আর্থিক অবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অতিরিক্ত অর্থায়ন না থাকায় আমাদের এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
তারা যাত্রীদের অর্থ ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গত বছরের শেষ নাগাদ সংস্থাটির প্রায় ৭,৫০০ কর্মী ছিল। শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এই ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেছে। এয়ার লাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, “এই সিদ্ধান্তের কষ্ট বোর্ডরুমে নয়, পাইলট, কেবিন ক্রু, মেকানিক এবং তাদের পরিবারের ওপর পড়বে।”
সরকারের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন পরিবহন সচিব শন ডাফি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংস্থাটিকে টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন।
তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট বিষয়টি নিয়ে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন, কিন্তু এটি মূলত ঋণদাতাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, সরকারের সব সময় বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেওয়ার সুযোগ থাকে না।
ডাফি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনকে দায়ী করে বলেন, ২০২৪ সালে স্পিরিট ও জেটব্লুর প্রস্তাবিত একীভূতকরণ আটকে দেওয়া হয়েছিল।
যাত্রীদের দুর্ভোগ
ফ্লোরিডার বাসিন্দা রামন (৬০) জানান, তিনি পরিবারের সঙ্গে হন্ডুরাস যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে বিকল্প ফ্লাইটের ভাড়া অনেক বেশি হওয়ায় তিনি এখন ফেরতের অপেক্ষায় রয়েছেন।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব
১৯৯২ সালে যাত্রা শুরু করা স্পিরিট এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমূল্যের বিমান ভ্রমণের অন্যতম পথপ্রদর্শক ছিল। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তারা প্রায় ২৮ মিলিয়ন যাত্রী পরিবহন করেছে।
তবে ২০২৪ সালের নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের আগস্টে দেউলিয়া হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই সংস্থাটি সংকটে ছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে জেট জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়া চূড়ান্ত ধাক্কা দিলেও স্পিরিট আগে থেকেই দুর্বল অবস্থায় ছিল। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্বল্পমূল্যের বিমান ভাড়ার ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

