উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ।
সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ইয়ংবিয়নে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ ২৮টি সেন্ট্রিফিউজ ক্যাসকেড স্থাপন করা সম্ভব। পিয়ংইয়ংয়ের কাছে কাংসন এলাকায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায়ও কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র এবং উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিসহ উন্মুক্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
২০০৯ সালে উত্তর কোরিয়া থেকে আইএইএর পরিদর্শকদের বহিষ্কার করা হয়েছিল। এরপর স্যাটেলাইট চিত্রে নতুন স্থাপনাটির নির্মাণকাজ এবং জুনের শুরুতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের ওই স্থাপনা পরিদর্শনের ছবি তুলনা করে ইয়ংবিয়নে এটিকে দ্বিতীয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা হিসেবে শনাক্ত করেছে সংস্থাটি।
জুনে স্থাপনাটি পরিদর্শনের সময় কিম জং-উন দাবি করেছিলেন, গত পাঁচ বছরে অস্ত্র তৈরির উপযোগী পারমাণবিক উপাদান উৎপাদনের সক্ষমতা উত্তর কোরিয়া দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দেশটির পারমাণবিক শক্তি আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজের ২০২৫ সালের একটি বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইয়ংবিয়নের সম্ভাব্য ২৮টি ক্যাসকেডে ৪ হাজার ৫৯২টি সেন্ট্রিফিউজ থাকতে পারে। এসব সেন্ট্রিফিউজ থেকে বছরে প্রায় ৮৫ কেজি অস্ত্র তৈরির উপযোগী উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন সম্ভব হতে পারে, যা দিয়ে আরও তিন থেকে চারটি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করা যেতে পারে।
আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এ সপ্তাহে এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার কাংসন ও ইয়ংবিয়নে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চলমান থাকা এবং অস্ত্র তৈরির উপযোগী পারমাণবিক উপাদান উৎপাদনের সক্ষমতা সম্প্রসারণের খবরে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির ধারাবাহিকতা ও সম্প্রসারণ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ এবং বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক আগস্টে বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকতে পারে। তবে তিনি জানান, এই সংখ্যা বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাবের ওপর ভিত্তি করে করা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী নিজস্বভাবে এ সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি। একই মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ৫৭ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচিতে দ্রুত অগ্রগতি করেছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অংশ হিসেবে দেশটি নিজেকে বৈধ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে। ২০১৭ সালের পর উত্তর কোরিয়া একাধিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। ওই বছরই সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালায় দেশটি।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ২০২০ সালে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়া সম্ভবত তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডে স্থাপনের উপযোগী পারমাণবিক ডিভাইস তৈরি করেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

