সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে বাড়তি নজরদারি ও কড়াকড়ি আরোপ করেছে সৌদি আরব। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে কিছু অর্থ স্থানান্তর বিলম্বিত হচ্ছে, আবার কিছু লেনদেন ফেরত যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সৌদি আরবের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংককে আমিরাতমুখী অর্থ লেনদেনে বাড়তি যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে। তবে সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।
কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের আমিরাতমুখী অর্থ স্থানান্তর আটকে যাচ্ছে বা বিলম্বিত হচ্ছে। আগে কয়েক দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া কিছু লেনদেনে এখন কয়েক সপ্তাহ সময় লাগছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অর্থপাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও অন্যান্য আর্থিক অপরাধ ঠেকাতে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ দেশ বা অঞ্চলের ক্ষেত্রে সৌদি ব্যাংকগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়। আমিরাতের ক্ষেত্রে একই ধরনের বাড়তি নজরদারি চালু করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক কর্মকর্তা বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে ব্যাংক লেনদেনে অস্বাভাবিক বিলম্বের বিষয়ে বেসরকারি খাত থেকে কোনো অভিযোগ তারা পাননি। তিনি বলেন, সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘদিনের শক্তিশালী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই উপসাগরীয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বেড়েছে। তেল উৎপাদন, আঞ্চলিক প্রভাব, বিদেশি বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর আঞ্চলিক সদর দপ্তর স্থাপন নিয়ে রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে।
কয়েকজন আঞ্চলিক আর্থিক খাতের সূত্রের মতে, আমিরাতমুখী অর্থ লেনদেনে বাড়তি নজরদারি দুই দেশের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনারও একটি ইঙ্গিত হতে পারে। তবে সৌদি ও আমিরাতের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিচ্ছেদ হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

