কিমের সঙ্গে বৈঠক চান ট্রাম্প, উত্তর কোরিয়া বলছে ‘এখনই নয়’

কিমের সঙ্গে বৈঠক চান ট্রাম্প, উত্তর কোরিয়া বলছে ‘এখনই নয়’
৩০ জুন, ২০১৯ তারিখে কোরিয়ার পানমুনজমের অসামরিকীকৃত অঞ্চলে একটি বৈঠকের আগে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন কথা বলছেন। ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে পিয়ংইয়ংয়ের শীতল প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ‘চমৎকার’ হলেও বৈঠকে বসতে ওয়াশিংটনের সামনে কঠিন শর্ত দিতে পারে উত্তর কোরিয়া। খবর রয়টার্সের।

বিজ্ঞাপন

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প হঠাৎ করেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর কমিয়ে দেন। তিনি এসব মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘বৈরী’ বলে মন্তব্য করেন। বুধবার তিনি বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই কিমের সঙ্গে তার বৈঠক হবে বলে তিনি আশা করছেন।

মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় কর্মকর্তাদের আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে আগ্রহী ট্রাম্প।

ইরানের সঙ্গে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসানের তাৎক্ষণিক কোনো সম্ভাবনা নেই। এমন পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের নতুন করে যোগাযোগের উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে পিয়ংইয়ং রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধকে সমর্থন দিতে সেনা, সামরিক সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে।

সূত্রটি বলেছে, ট্রাম্পের এই কৌশলের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর বিষয়ে সিউলের কর্মকর্তাদের এখনো সংশয় রয়েছে।

চলতি বছরের শেষ দিকে চীনের শেনজেনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে ট্রাম্পের যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর কোরিয়া নতুন করে আলোচনায় আগ্রহী হলেই ওই অঞ্চলে দুই নেতার বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘উপযুক্ত সময়ে প্রেসিডেন্ট ও কিম জং উন আবার বৈঠক করবেন।’

তবে উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত খুব একটা উৎসাহব্যঞ্জক নয়। বিশ্লেষকদের মতে, পিয়ংইয়ং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ট্রাম্প ও কিমের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এক বিষয় নয়।

কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল বলেন, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কখনোই উত্তর কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা বা সামরিক সক্ষমতা জোরদারের স্বার্থকে ছাড়িয়ে যাবে না।

তার ভাষায়, পিয়ংইয়ং মূলত এই বার্তা দিচ্ছে যে ব্যক্তিগত কূটনীতির সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং তা তাদের কৌশলগত অগ্রাধিকারকে পরিবর্তন করবে না।

কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার উলচি ফ্রিডম শিল্ড মহড়ার পরিসর কমানোর সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার দাবি, মহড়াটি চলমান থাকায় তা এখনো আগ্রাসী পদক্ষেপ। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি এখনো বৈরী রয়েছে।

তিনি ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে সাম্প্রতিক কোনো যোগাযোগের কথাও অস্বীকার করেছেন। তবে দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেছেন।

বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূলের দিকে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। বিশ্লেষকদের ধারণা, চলমান যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদ হিসেবেই এই উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

কিম ইয়ো জং এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে কোনো ধরনের ‘সদিচ্ছার ইঙ্গিত’ হিসেবে তুলে ধরতে চায়, তাহলে তারা কাঙ্ক্ষিত জবাব পাবে না।

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন