ভারতে ককরোচ পার্টির ওপর বিজেপির হামলা

ভারতে ককরোচ পার্টির ওপর বিজেপির হামলা

রাজস্থানের জয়পুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যাওয়ার পথে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার জয়পুরের বাগরু বিধানসভা এলাকার রামপুরা কানওয়ারপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য ক্ষমতাসীন বিজেপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের দায়ী করেছে সিজেপি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির দাবি, স্থানীয়রাই সিজেপি দলের প্রবেশে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

সিজেপি-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে একটি দল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যাচ্ছিল। এ সময় গ্রামের প্রবেশমুখে একদল লোক তাদের বাধা দেয় এবং তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে হামলা চালায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উত্তেজিত জনতাকে সিজেপি কর্মীদের ধাওয়া করতে এবং কয়েকজনকে মারধর করতে দেখা যায়।

হামলাকারীরা সিজেপি সদস্যদের ‘আরবান নকশাল’, ‘দেশবিরোধী’ ও ‘পাকিস্তানি’ বলে স্লোগান দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সিজেপি দলের সদস্যরা গ্রাম ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। ফলে তারা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করতে পারেননি।

hamla

হামলার পর আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে একটি গোয়ালঘরে পরিচালিত হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আমন্ত্রণেই তারা সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তার দাবি, গত বছরও তারা ওই বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছিলেন এবং শুক্রবারের কর্মসূচির বিষয়ে পুলিশকে আগেই জানানো হয়েছিল।

রাঙ্কা বলেন, হামলায় তাদের গাড়ি ভাঙচুর, মোবাইল ফোন নষ্ট এবং এক নারী সদস্যকে মারধর করা হয়েছে। তার নিজের জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয় এবং দলের এক সদস্যের হাত ভেঙে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দায়ী না করার আহ্বান জানিয়েছেন সিজেপি নেতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিজেপি নেতার উদ্যোগে বাইরে থেকে লোকজন এনে হামলা ও সহিংসতা সৃষ্টি করা হয়েছিল। এমনকি এক স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলরকে কয়েকজন হামলাকারীকে টাকা বিতরণ করতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সিজেপির সদস্য শিবাঙ্গী শর্মাও হামলার অভিযোগ তুলে বলেন, তিনি ওই এলাকারই বাসিন্দা এবং সেখানেই বেড়ে উঠেছেন। এরপরও তাকে ‘পাকিস্তানি’, ‘নকশাল’ ও ‘বহিরাগত’ বলে গালাগাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, হামলার সময় নারী সদস্যদেরও মারধর ও হেনস্তা করা হয়।

অন্যদিকে, বিজেপির জয়পুরের বিধায়ক স্বামী বালমুকুন্দাচার্য বলেন, স্থানীয়রা সিজেপির কার্যক্রমে আপত্তি জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, গ্রামবাসীরা সিজেপি দলকে গ্রামে ঢুকতে দেননি। শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে—এমন কোনো পরিবেশ স্থানীয়রা চান না বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে সিজেপি দলের ওপর হামলার ঘটনায় রাজস্থান বিধানসভাতেও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসারা এ ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছেন।

সূত্র: এনডিটিভি

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন