আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আমেরিকার হুমকি, ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি

ডেস্ক রিপোর্ট

আমেরিকার হুমকি, ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
ফাইল ছবি

ইরানে অর্থনৈতিক সংকট, দেশটির মুদ্রার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন এবং দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের ডাকা কর্মসূচি দিয়ে দেশটিতে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা সহিংস বিক্ষোভে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যালয়, মসজিদসহ নানা স্থানে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালায়।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বলপ্রয়োগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫০ জন নিহত হয়েছেন। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআরএনজিও) গতকাল এ তথ্য জানায়। নিহতদের মধ্যে ৯ জন ১৮ বছরের কম বয়সি। আন্দোলন শুরুর পর থেকে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের হামলায় নিহত হন নিরাপত্তাবাহিনীর শতাধিক সদস্য।

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি ইরানে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে, পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরানও। এর মধ্যে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারের সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসেন লাখ লাখ জনতা। খবর বিবিসি, আলজাজিরা ও প্রেসটিভির।

গতকাল সোমবার সরকারের ডাকে রাজধানী তেহরানসহ বেশিরভাগ প্রদেশে স্থানীয় সময় দুপুরে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। কিছু প্রদেশে মানুষ সরকারের সমর্থনে রাস্তায় নামেন সকাল থেকেই। কর্মকর্তারা দেশব্যাপী জনতার এই সমর্থনকে শত্রুর ষড়যন্ত্রের মুখে ঐক্য ও সংহতির অকাট্য প্রমাণ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

উত্তেজনার মধ্যে তেহরান-ওয়াশিংটন বাগ্‌যুদ্ধ থেমে নেই। ট্রাম্পের হুমকির মুখে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। গতকাল তেহরানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বিদেশি কূটনীতিকদের বলেন, সপ্তাহান্তে সহিংসতা বেড়েছে কিন্তু পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, দেশব্যাপী বিক্ষোভ সহিংস ও রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য একটি অজুহাত তৈরি করতে পারেন।

কঠিন এই পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত জানিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, সংলাপের জন্যও প্রস্তুত।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কয়েকদিন ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন করা হয় ইরানজুড়ে। ধীরে ধীরে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন আরাগচি। তিনি জানান, ইন্টারনেট পরিষেবা শিগগিরই চালু করা হবে এবং সরকার নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে অগ্রগতি করছে।

বিক্ষোভের তৃতীয় সপ্তাহে এসে ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন। সম্প্রতি তিনি তেহরানকে হুমকি দিয়ে বলেন, তার হাতে খুব শক্তিশালী বিকল্প রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যোগাযোগের পথ এখনো খোলা আছে।

বিক্ষোভকারীদের ওপর যেন বলপ্রয়োগ করা না হয় সেজন্য জার্মানি, ফিনল্যান্ড, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ ইরানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলছে, যদি প্রয়োজন হয় ইরানের ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

ইইউর মুখপাত্র আনোয়ার এল আনুনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের পর আমরা নতুন, আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত।

বর্তমানে যদিও পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ তেহরানের ওপর নানা অজুহাতে শত শত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে।

তীব্র বিক্ষোভে বিপর্যস্ত ইরানের সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুব একটা সমর্থন পাচ্ছে না। এ অবস্থায় তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে বলেছে যে, তারা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, আমরা সর্বদা অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছি এবং ধারাবাহিকভাবে সমর্থন করেছি যে সমস্ত জাতির সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত হওয়া উচিত। আমরা সকল পক্ষকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য আরও বেশি কিছু করার আহ্বান জানাই।

বিক্ষোভে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি। তাদের তথ্য অনুসারে, ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ১৮৬টি শহর এবং ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ফলে ৪৯৬ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। এছাড়া কমপক্ষে ১০ হাজার ৬০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন