নরসিংদীতে বাড়ছে ‘মধু’ আনারসের আবাদ

নরসিংদীতে বাড়ছে ‘মধু’ আনারসের আবাদ
ছবি: আমার দেশ

নরসিংদীর রাবান এলাকার রসেভরা মিষ্টি মধুর আনারস খ্যাতি ছড়াচ্ছে দেশজুড়ে। নিজ জেলাসহ আশপাশের জেলা থেকেও অসংখ্য লোকজন আনারস বাগান দেখতে, খেতে ও কিনতে ছুটে আসেন রাবানে। সম্প্রসারণের জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন কৃষি বিভাগ।

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার লালমাটির টিলাযুক্ত বিরাট একটি অংশ জিনারদী ইউনিয়ন। এরমধ্যে রাবান, কুড়াইতলী, ছয়দড়িয়া, লাখেরাজ, বরাবো, ভালুকাপাড়া, বিলপাড়, সাতটেকিয়া, কাটাবের, বড়িবাড়ি, বাঘাবো এবং উত্তর চন্দনের কিছু অংশজুড়ে এই লালমাটির টিলাযুক্ত এলাকা। কৃষি বিভাগের মতে, এই এলাকার লালমাটি খুবই উর্বর। আর এই মাটির গুণাগুণ খুবই উর্বর হওয়ায়, এখানে প্রচুর পরিমাণে আনারস আবাদ হয়ে থাকে। এখানকার উৎপাদিত আনারস রসালো ও মিষ্টি। ফলে এখানকার আনারসের খ্যাতি রয়েছে সারা দেশে। এই আনারস বাগান দেখতে নরসিংদীসহ আশপাশের জেলা থেকেও ছুটে আসেন অনেকে। আর দেখতে এসে খেয়ে স্বাদ পাওয়ায়, চাহিদা অনুযায়ী কিনে নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। এবার এখানকার ১১টি গ্রামে প্রায় একশত চুয়াল্লিশ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। আর এ বছর প্রতি হেক্টর বাগান থেকে প্রায় ১২ টন আনারসের আবাদ হয়েছে বলে জানান কৃষি বিভাগ। সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আনারস এনে রাবান এলাকার খ্যাতি নষ্ট করছে। তাই এটি প্রতিরোধেরও দাবি জানান অনেকে।

বিজ্ঞাপন

রাবান এলাকার কৃষক সুরুজ মিয়া জানান, বাপ দাদার পেশা আনারসের চাষ এখনো ধরে রেখেছেন তিনি। আর তার ছেলেকেও একই পেশায় রেখেছেন। এবার তিনি তার বাড়ির পাশে তিনটি বাগানে আট হাজার আনারসের চারা রোপণ করেছেন। এরমধ্যে ছয় হাজার গাছে ফলন ধরেছে। বাড়ির পাশের রাবান ও কুড়াইতলী বাজারে নিয়ে বিক্রির সুবিধার্থে তিনি বাগান বিক্রি না করে প্রতিদিন অল্প অল্প করে আনারস বিক্রি করেন। এতে পাইকারী বিক্রি থেকে কয়েকগুণ বেশি লাভ হয়। এই বাগান করতে গিয়ে জৈব সার ছাড়া অন্য কোনো কিছু ব্যবহার করা হয়নি বলে জানান তিনি।

তার আরেক প্রতিবেশী কৃষক অজিদ দত্ত বলেন, তিনি একটি বেসরকারি কারখানায় চাকরি করেন। এর পাশাপাশি বাড়ির সঙ্গে প্রায় পাঁচ হাজার চারা রোপণ করে একটি আনারস বাগান করেছেন। এবার সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায়, ফলন ভালোই হয়েছে। তবে ইঁদুর কিছু আনারস খেয়ে ফেলেছে। এ বছর বাগানটি ৯০ হাজার টাকায় বন্ধক দিয়েছেন মেয়েকে নার্সিংয়ে ভর্তি করবেন বলে।

তিনি আরো বলেন, এখানকার মাটি উর্বর হওয়ায়, জৈব সার ছাড়া তেমন কিছু দিতে হয় না। আর এতে যে ফলন হয়, তাতে যে লাভ হয় এতেই খুশি।

এই অঞ্চলের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শিখা রায় জানান, পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের এই ব্লকের ১০/১২টি গ্রামে আনারসের চাষ হয়। এই এলাকার মাটি আনারস চাষের জন্য খুবই উর্বর। তাই আনারস চাষে শুধু জৈব সার ব্যবহার করলেই যথেষ্ট। এছাড়া আনারস চাষের বিষয়ে এই এলাকার কৃষকদের মাঠপর্যায়ে এবং জেলা ও উপজেলায় নিয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

কালীগঞ্জ থেকে আনারস কিনতে আসা বশির জানান, এখানকার আনারসের গন্ধ সুন্দর, রসালো, মধুরমতো মিষ্টি, তাই আনারস কিনতে আসা। দেশের অন্যান্য এলাকার আনারসের চেয়ে এই এলাকার আনারস শতগুণে ভালো। তাই এখানকার আনারস আকারে ছোট হলেও একটু দাম দিয়েই কিনতে হয়।

পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আয়েশা আক্তার বলেন, এলাকার কৃষকদের আনারস চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জমির লক্ষণ দেখেও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা। আর দূরদূরান্ত থেকে আনারস এনে রাবানের বলে চালিয়ে দেওয়ার বিষয়ে একাধিকবার পদক্ষেপ নিয়েও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য তা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন