ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে বড়বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী, ইজিবাইক, মোটরচালিত রিকশা, ভ্যান ও বিভিন্ন যানবাহনের দখলে। এতে করে প্রতিদিন তীব্র যানজটে পথচারীরা চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কের দুই পাশের অধিকাংশ জায়গা দখল করে বসেছে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। ডাব, সিদ্ধ ডিম, মৌসুমি ফল, ফলের জুসসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান রঙিন ছাতা টাঙিয়ে রাস্তার ওপরই বসানো হয়েছে। এর সঙ্গে ইজিবাইক, মোটরচালিত রিকশা ও ভ্যানের অবাধ অবস্থান পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
সড়কের ডিভাইডারের উত্তর পাশে প্রায় ৩০ ফুট প্রশস্ত রাস্তার প্রায় ২৫ ফুট এবং দক্ষিণ পাশে প্রায় ২৫ ফুট রাস্তার প্রায় ২০ ফুটই বর্তমানে অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচলের জন্য খুব সামান্য জায়গা অবশিষ্ট থাকায়, সারাক্ষণই যানজট লেগে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সড়কের বেহাল অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকায়, বর্ষার পানি সড়কে জমে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে জমে থাকা কাদা পানির ওপর দিয়ে দ্রুত গতিতে যানবাহন চলাচল করলে পানি ছিটকে পথচারী, দোকানপাট ও ক্রেতাদের গায়ে পড়ছে। এতে প্রতিদিনই দুর্ভোগ বাড়ছে।
সড়কের পাশে অবস্থিত রূপসাগর গ্লাস হাউজের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা লাখ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে এবং প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করি। অথচ দোকানের সামনেই ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চলছে। ফলে ক্রেতারা সহজে দোকানে আসতে পারেন না। মোকাম থেকে মালামাল আনলেও দোকানের সামনে গাড়ি দাঁড় করানোর জায়গা পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে কিছু বলতে গেলেই প্রতিনিয়ত বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। বহুবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো সমাধান পাইনি।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী কবির হাসান বলেন, মেইন বাসস্ট্যান্ড থেকে বড়বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের নতুন বাজার সংলগ্ন মিনি স্টেডিয়াম এলাকায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সড়কে জটলা সৃষ্টি করা ইজিবাইক, রিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের জন্যও নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের কাজ চলছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

