গাজা উপত্যকা পুরোপুরি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরাইল পুরো উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়। এরপর হামাসকে হটিয়ে একটি আরব বাহিনীর হাতে গাজার শাসনভার তুলে দেওয়া হবে। তবে ইসরাইলের ভেতরে তো বটেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমালোচনার মুখে পড়েছে এ পরিকল্পনা।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা দখলের বিরোধিতা করছে গাজার শাসকগোষ্ঠী হামাস। হামাস নেতা ওসামা হামদান আল জাজিরাকে জানান, গাজায় ইসরাইলের অবিরাম ও ভয়াবহ যুদ্ধের কারণে এখন আর কোনো আরব সরকার তার সঙ্গে অংশীদার হতে চাইবে না।
যুক্তরাজ্য বলছে, ইসরাইল গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে বলে আশাবাদী তারা।
টাইমসন রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাতকারে ব্রিটিশ মন্ত্রী মিয়াত্তাহ নিমা ফাহনবুল্লেহ বলেন, ‘আমরা মনে করি এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত। আমরা আশা করি ইসরাইলি সরকার এটি পুনর্বিবেচনা করবে।’
তিনি বলেন, ‘গাজায় এরইমধ্যে অসহনীয় এবং ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।’
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এই পরিকল্পনা গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরো বাড়িয়ে তুলবে।
তিনি বলছেন, দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই শান্তির একমাত্র পথ।
আল জাজিরার জেষ্ঠ্য রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশরা বলেন, গাজা দখলের সিদ্ধান্ত নিন্দনীয় এবং বোকামীপূর্ণ।
এদিকে, পুরো গাজা দখলে নিতে নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা শুরু থেকেই বিরোধিতা করছেন ইসরাইলের সেনা প্রধান ইয়াল জামির।
তিনি পুরো গাজা দখলের বিরোধী কারণ, এতে ইসরাইলি জিম্মিদের জীবন হুমকির মুখে পড়বে। জিম্মিদের মধ্যে ২০ এখনো জীবিত রয়েছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।
ইসরাইলের বিরোধী নেতা ইয়ার ল্যাপিদ গাজা দখলের সিদ্ধান্তকে ‘বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এই বিপর্যকর সিদ্ধান্ত আরো অনেক বিপর্যয় ডেকে আনবে।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

