পদ্মার শাখা নদীতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী চর চাকলা গ্রাম। গ্রামের গোরস্তানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে পাঁচ শিশুকে। একসঙ্গে এত শিশুর মৃত্যুর ঘটনা আগে কখনো না ঘটলেও প্রতি বছরই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয় এই গ্রামে। অথচ এ এলাকায় নেই প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী। নেই প্রয়োজনীয় সচেতনতাও। এ নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয়রা।
শুক্রবারের মৃতরা হলো- চর চাকলা গ্রামের মাসুদের মেয়ে সুমাইয়া (১০) ও তার ছোট বোন আরিবা (৮), শরিফুলের মেয়ে শরিফা (১২), নিজামুদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া (১২) এবং তার ছোট বোন সুরাইয়া (৯)। তারা সবাই চরচাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
নিহতদের বান্ধবি শিশু সুরাইয়া জানান, শুক্রবার স্কুল ছুটি থাকায় এক সঙ্গে পাঁচজন পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নদীতে গোসলে যায়। একে একে তারা ডুবে মারা যায়। সুমাইয়া ও আরিবা তাকেও গোসলের জন্য ডাকতে এসেছিল। বাবার ভয়ে সে গোসলে যায়নি।
-0c44b4.jpg)
চর চাকলা গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বলেন, প্রতি বছরই আমাদের এলাকায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কেউ ডুবে গেলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের খবর দিলেও আসতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এলাকায় ডুবে যাওয়া শিশুদের উদ্ধারে প্রশিক্ষিত কোনো উদ্ধারকর্মী নেই। এমনকি এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও নেই। বছরের পর বছর শিশুরা মারা যাবে এটাই যেন এ এলাকার মানুষের নিয়তি। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রিক কিছু সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো উচিত সরকারের। স্থানীয়ভাবে একটি উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবী দলও প্রস্তুত করা যেতে পারে। সরকার চাইলেই খুব সহজে এটা করতে পারে। এরকম আমরা পদক্ষেপ চাই সরকারের কাছে।
একই এলাকার মো. শুকুরদ্দি নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, আমাদের গ্রামে আসতে হলে একটি নদী পার হতে হয়। গ্রাম পর্যন্ত পাকা রাস্তাও নেই। যে কারণে প্রতি বছর শিশুরা ডুবে মারা গেলেও আমরা এ বিষয়ে কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। তবে পরিবার থেকেই শিশুদের চোখে চোখে রাখা হয়। চোখের আড়াল হলেই ঘটে দুর্ঘটনা। আজ যে ৫ শিশু মারা গেছে, তারাও পরিবারের অগোচরে পদ্মার শাখা নদীতে গোসল করতে গেছিল।
আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, পাশাপাশি পাঁচ শিশুকে দাফন করা হয়েছে। এক সঙ্গে এতগুলো কবর আগে কখনো খোঁড়া হয়নি। আল্লাহ এই শিশুদের যেন জান্নাতবাসী করেন।
দেবীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা এ এলাকায় এই প্রথম। পাঁচ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজার রাজন বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু কমানোর জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানিতে ডুবে মৃত্যু এবং বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়ে মসজিদকেন্দ্রিক এবং স্কুলকেন্দ্রিক সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছি। তবে দুর্গম এলাকায় স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী বা শিশুদের সাঁতার শেখানোর কার্যক্রম চালু নেই। আমরা অবশ্যই উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি নিয়ে কাজ করব। আমরা সুযোগ আছে এবং আমরা চেষ্টা করব।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

