দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ও রিসার্চ অফিস করবে ইউজিসি

দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ও রিসার্চ অফিস করবে ইউজিসি

দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে আরো নিবিড়ভাবে যুক্ত করা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বৈশ্বিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ও রিসার্চ অফিস প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

বিজ্ঞাপন

এই অফিসগুলোর মাধ্যমে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা, যৌথ বা দ্বৈত ডিগ্রি কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান আহরণ, যৌথ গবেষণাগার ও উদ্ভাবন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাসহ বহুমুখী সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

মঙ্গলবার ইউজিসিতে আয়োজিত ‘ইরাসমাস প্লাস ইনফো সেশন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব কথা বলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বিশ্বে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান, গবেষণার সক্ষমতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অবস্থান অনেকাংশে নির্ভর করে বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ওপর। তাই বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থার সক্রিয় অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে ইউজিসি কাজ করছে।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে ইউজিসি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কমিশনের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেও উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, আমরা শুধু শিক্ষার্থীদের বিদেশে পাঠানোর কথা ভাবছি না। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, যৌথ ল্যাবরেটরি, জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং বিভিন্ন একাডেমিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের বাস্তব ও স্থানীয় সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নত প্রযুক্তি, গবেষণা অবকাঠামো ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ও রিসার্চ অফিস শুধু আন্তর্জাতিক অংশীদার খোঁজার কাজই করবে না; বরং আন্তর্জাতিক বৃত্তি, গবেষণা অনুদান, ফেলোশিপ, একাডেমিক বিনিময় ও যৌথ প্রকল্পের সুযোগ চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেগুলো কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের অফিসকে কার্যকর ও টেকসই করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা, দক্ষ জনবল উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়েও ইউজিসি সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজস্ব অগ্রাধিকার ও সক্ষমতা অনুযায়ী একটি কার্যকর আন্তর্জাতিকীকরণ কৌশল প্রণয়ন করতে হবে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। তাদের জ্ঞান, দক্ষতা, গবেষণা অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা এটিকে শুধু ‘ব্রেন ড্রেন’ হিসেবে দেখতে চাই না; বরং ‘ব্রেন সার্কুলেশন’-এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত আমাদের মেধাবী শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীদের সঙ্গে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে চাই।

এ লক্ষ্যে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীদের নিয়ে একটি একাডেমিক ডায়াসপোরা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, পাঠদান, যৌথ প্রকল্প, গবেষণা তত্ত্বাবধান এবং সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে যৌথ গবেষণা, যৌথ ডিগ্রি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী, ইউজিসি সচিব ড. ফখরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক জেসমিন পারভীন এবং ইরাসমাস প্লাস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্টস নেটওয়ার্কের এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আশিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও গবেষণা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং অন্যান্য অংশীজন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন