জার্মানি থেকে প্রায় ৫,০০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ রিপাবলিকান নেতারা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
ন্যাটো শনিবার জানায়, জার্মানিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বুঝতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এই ঘোষণা আসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎসের মধ্যে সাম্প্রতিক বিরোধের পর। মেরৎস অভিযোগ করেছিলেন, আলোচনায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে “হেয়” করছে।
এর পাশাপাশি, ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানি করা গাড়ি ও ট্রাকে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা আগামী সপ্তাহ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল জানান, জার্মানি থেকে প্রায় ৫,০০০ সেনা প্রত্যাহার আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট বলেন, “এই পরিবর্তন ইউরোপকে তাদের প্রতিরক্ষা খাতে আরও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে এবং যৌথ নিরাপত্তায় আরও দায়িত্ব নিতে হবে।”
২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, ন্যাটোর মিত্র জার্মানিতে ৩৬,৪৩৬ জন সক্রিয় মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। তুলনায় ইতালিতে ছিল ১২,৬৬২ জন এবং স্পেনে ৩,৮১৪ জন।
জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়ুস বলেন, ইউরোপ ও জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার “অনুমানযোগ্য” ছিল।
রিপাবলিকানদের উদ্বেগ
মার্কিন কংগ্রেসের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির শীর্ষ রিপাবলিকান নেতারা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
সেনেটর রজার উইকার ও প্রতিনিধি মাইক রজার্স এক যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেন, জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে “ভুল বার্তা” পাঠাতে পারে।
তারা বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ালেও, সেই বিনিয়োগকে কার্যকর সামরিক সক্ষমতায় রূপ দিতে সময় লাগবে।
এছাড়া তারা উল্লেখ করেন, জার্মানি ট্রাম্পের আহ্বানে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়েছে এবং ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতে মার্কিন বিমানকে জার্মান ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে।
ট্রাম্পের অবস্থান
ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর চাপ দিয়ে আসছেন যাতে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব বেশি করে নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমায়।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়া বা হরমুজ প্রণালীতে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে অংশ না নেওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, ইতালি ও স্পেন থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে পারেন।
তিনি বলেন, “ইতালি আমাদের কোনো সহায়তা করেনি এবং স্পেনের ভূমিকা খুবই খারাপ। হ্যাঁ, সম্ভবত আমি সেনা সরিয়ে নেব—কেন নেব না?”
অন্যদিকে, জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা কমানোর সম্ভাবনার জন্য বার্লিন প্রস্তুত রয়েছে এবং ন্যাটোর সব কাঠামোর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ঘনিষ্ঠ আলোচনা চলছে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জার্মানিতে অবস্থিত বড় মার্কিন ঘাঁটিগুলো—যেমন রামস্টাইন এয়ার বেস—নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না এবং এগুলোর গুরুত্ব অপরিবর্তনীয়।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

