তিন মেয়ের একক মা (সিঙ্গেল মাদার) হিসেবে ইর্মা গার্সিয়ার নিজের জন্য খুব একটা সময় থাকত না। তবে যখনই তিনি সামান্য সময় পেতেন, তখনই নিজের স্বপ্ন পূরণে পড়াশোনায় মন দিতেন। অবশেষে ৭২ বছর বয়সে এসে ব্যাচেলর বা স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন তিনি।
১৯৭৮ সালে নিজের ২০-এর কোঠার শুরুতে পুয়ের্তো রিকো থেকে ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় চলে আসেন গার্সিয়া। সেখানে একাই তিন মেয়েকে বড় করেন, যার জন্য প্রায়ই তাকে একাধিক চাকরি করতে হতো। পুয়ের্তো রিকো ছাড়ার সময় তার বড় মেয়ের বয়স ছিল তিন বছর এবং যমজ দুই মেয়ের বয়স ছিল এক বছর।
গার্সিয়া বলেন, ‘আমি পুয়ের্তো রিকো ছেড়েছিলাম কারণ আমি পড়াশোনা করতে চেয়েছিলাম।’
তিনি জানান, পুয়ের্তো রিকোর মজুরি দিয়ে তার পরিবারের ভরণপোষণ করা কঠিন ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে এসে তিনি স্থানীয় একটি কমিউনিটি কলেজে ক্লাস শুরু করেন এবং ১৯৮০-এর দশকে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি অর্জন করেন। কিন্তু তিন মেয়ের লালন-পালনের চাপের কারণে ওই সময় আর পড়াশোনা এগিয়ে নিতে পারেননি। পাঁচ বছর আগে, যখন তার বয়স ৬০-এর শেষের দিকে এবং তিনি আংশিক অবসর নেন, তখন তিনি নিজের জন্য বেশ কিছু সময় পান। একই সাথে জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির প্রবীণদের টিউশন ফি মওকুফ কর্মসূচির আওতায় প্রতি সেমিস্টারে তিনটি করে বিনামূল্যে ক্লাস করার সুযোগ পান।
বর্তমানে আট নাতি-নাতনির দাদি গার্সিয়া অবশেষে তার লক্ষ্যে পৌঁছেছেন। গত ১৬ মে শনিবার জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির 'শার স্কুল অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট' থেকে ক্যাপ ও গাউন পরে মঞ্চে হেঁটে তিনি তার ডিপ্লোমা বা সনদপত্র গ্রহণ করেন।
গার্সিয়া বলেন,‘আপনি যখন তরুণ থাকেন, তখন সবসময় ভাবেন যে সবকিছু এখনই করতে হবে। কিন্তু সবকিছু একই সময়ে করার প্রয়োজন নেই। আপনি আপনার মতো সময় নিতে পারেন।’
এখন তিনি নিশ্চিত করতে চান অন্য মানুষ, বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও সংখ্যালঘু নারীরা, যারা তরুণ বয়সে সহজে শিক্ষার সুযোগ পাননি, তারা যেন চাইলে কলেজে যাওয়ার প্রয়োজনীয় সম্পদ ও সহযোগিতা পান।
গার্সিয়া জানান, তার আট নাতি-নাতনির মধ্যে পাঁচজন ইতোমধ্যে কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেছে। তারাই ছিল গার্সিয়ার সবচেয়ে বড় সমর্থক, যারা তাকে প্রযুক্তি ব্যবহারে সাহায্য করত এবং পড়াশোনার নানা পরামর্শ দিত। তার মেয়েরাও তাকে সাহায্য করেছে, তার অসুস্থতার সময় যত্ন নেওয়া থেকে শুরু করে আর্থিকভাবেও পাশে দাঁড়িয়েছে।
গার্সিয়া বলেন, ‘এটি একটি পারিবারিক অর্জন।’
গার্সিয়ার পরিবারে দেরিতে ডিগ্রি নেওয়াটা প্রায় একটি অনানুষ্ঠানিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। তার দাদি হাইস্কুল পাস করেছিলেন নিজের ছেলেদের সাথে, আর গার্সিয়ার মা অবসরে যাওয়ার পর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।
গার্সিয়া তার কর্মজীবনে গৃহহীন মানুষদের আবাসন খুঁজে পেতে সাহায্য করেছেন। এর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য তিনি সান্ধ্যকালীন সময়ে ওয়েন্ডি'স-এ (রেস্তোরাঁ) কাজ করতেন অথবা যে কমিউনিটি কলেজে পড়াশোনা করতেন সেখানকার ক্লার্ক বা কেরানি হিসেবেও কাজ করেছেন।
যেখানে থাকতেন সেখানে তার কোনো আত্মীয়স্বজন ছিল না, তাই সন্তানদের দেখভালের জন্য লোক খুঁজে পাওয়া তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। মেয়েরা একটু বড় হওয়ার পর তিনি তার বড় মেয়ের ওপর নির্ভর করতেন। গার্সিয়া বলেন, ‘কখনো কখনো ছুটির দিন ক্লাসে যাওয়ার সময় আমি ওদের সবাইকে সাথে নিয়ে যেতাম। বড় মেয়ে ক্যাফেটেরিয়া বা লাইব্রেরিতে বসে বাকি দু’জনকে দেখভাল করত, আর আমি ক্লাসরুমের দিকে দৌড়াতাম।’
কখনো কখনো সবকিছু খুব কঠিন মনে হতো জানিয়ে তিনি বলেন, তবে তার মেয়েরাই তাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এটি সহজ নয়, তবে তা করা সম্ভব। আমি মনে করি আমাদের সবারই একটি উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষা থাকা উচিত।’
সূত্র: ইউএসএ টুডে
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


