জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সাক্সনি-আনহাল্টে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনে জয় পেলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো কোনো কট্টর ডানপন্থি দল রাজ্য পর্যায়ে সরকার গঠনের সুযোগ পাবে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জরিপে কট্টর ডানপন্থি অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) প্রায় ৪০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে। তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্য-ডানপন্থি ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)-এর সমর্থন প্রায় ২৩ শতাংশ।
গত কয়েক মাস ধরে নির্বাচনি জরিপে এএফডি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। ছোট কয়েকটি দল ৫ শতাংশের ন্যূনতম ভোটসীমা পার হতে ব্যর্থ হলে এএফডি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাও পেতে পারে।
তবে এএফডি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে বর্তমান রাজ্যপ্রধান স্ভেন শুলৎসের নেতৃত্বে সিডিইউ সরকার গঠনের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। সেক্ষেত্রে নির্বাচনের পর কোন কোন দল ৫ শতাংশের বাধা পেরোতে পারছে, তার ওপর নির্ভর করে কয়েক সপ্তাহ ধরে জোট সরকার গঠনের আলোচনা চলতে পারে।
এএফডি-এর প্রার্থী উলরিশ জিগমুন্ড, যিনি আগে সিডিইউ-এর সদস্য ছিলেন, নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তার দাবি, এ ধরনের জয় ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে এএফডি-এর ক্ষমতায় যাওয়ার পথও সুগম করবে। প্রভাবশালী জার্মান সাময়িকী ডের শপিগেল একসময় তাকে ‘জার্মানির সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল।
জার্মান ট্যাবলয়েড বিল্ড-কে জিগমুন্ড বলেন, মূলধারার দলগুলোই এএফডি-এর সঙ্গে সহযোগিতার ‘ফায়ারওয়াল’ তৈরি করেছে। কেউ তাদের সঙ্গে কাজ করতে না চাইলে দলটি একাই সরকার পরিচালনার চেষ্টা করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এএফডি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে মূলধারার দলগুলোর ‘ফায়ারওয়াল’ বা সহযোগিতা না করার নীতি পাশ কাটিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পাবে। স্থানীয় পর্যায়ে দলটি ইতোমধ্যে এ ধরনের রাজনৈতিক বাধা অতিক্রম করেছে।
সাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনকে এএফডি ২০২৯ সালের ফেডারেল নির্বাচনে জাতীয় ক্ষমতা দখলের বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে।
এদিকে সিডিইউ-এর নেতৃত্বে রয়েছেন জনপ্রিয়তা হারানো জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে লোয়ার স্যাক্সনিতে এক প্রচার সমাবেশে তিনি অন্য রাজনীতিকদের এএফডি-এর সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার আহ্বান জানান।
মেরৎস বলেন, বর্তমান সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি রাজনৈতিক বক্তব্যে শব্দচয়ন নিয়েও সতর্ক হতে হবে। সাক্সনি-আনহাল্টে এএফডি-এর রাজ্য নেতা মার্টিন রাইখার্টের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ কথা বলেন। রাইখার্ট এর আগে দলটির যুব সংগঠনের কাছে জার্মানিকে ‘অলস, অসামাজিক ও মাদকের গন্ধমাখা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
নির্বাচনের আগের রাতে গণতন্ত্রের সমর্থনে আয়োজিত একটি উৎসবে হাজারো মানুষ জড়ো হন। আয়োজকদের হিসাবে, ওই বিক্ষোভ ও সমাবেশে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন।
রোববার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) বিকেল ৪টার দিকে, অর্থাৎ স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


-348480-720x405.webp)