শিশু হত্যা বন্ধ হলেই আমরা ন্যায়বিচার পাব: হিন্দ রজবের মা

শিশু হত্যা বন্ধ হলেই আমরা ন্যায়বিচার পাব: হিন্দ রজবের মা
হিন্দ রজবের একটি বিশাল প্রতিকৃতি তার মৃত্যুর দ্বিতীয় বার্ষিকীতে এবং তার মৃত্যু নিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র অস্কার মনোনয়ন পাওয়ার পর, স্পেনের বার্সেলোনার বার্সেলোনেটা সৈকতে উন্মোচন করা হয়, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬। ছবি: সংগৃহীত।

গাজায় পাঁচ বছর বয়সী হিন্দ রজাবকে ইসরাইলি বাহিনী হত্যার দুই বছর পর দায় স্বীকার করেছে সামরিক বাহিনী। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রজবের পরিবারের গাড়িতে এবং তাকে বাঁচাতে পাঠানো প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অ্যাম্বুলেন্সের গুলি চালিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।

বিজ্ঞাপন

অনেকের কাছে, এই ফৌজদারি তদন্তের ঘোষণাটি গণহত্যা যুদ্ধের অন্যতম প্রতীকী একটি মামলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

হিন্দের মা, ওয়েসাম হামাদার জন্য, এতে খুব বেশি কিছু বদলায় না।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি শিশুরা যখন মারা যেতেই থাকে, তখন একটি সামরিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পরিমাপ করা যায় না। হিন্দের হত্যাকাণ্ড গাজার শিশুদের দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

৩০ বছর বয়সী ওয়েসাম হামাদার টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ন্যায়বিচার হলো যুদ্ধ বন্ধ হওয়া।’

২০২৪ সালের ২৯শে জানুয়ারি, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর নির্দেশে হিন্দ ও তার পরিবার গাজা শহর থেকে পালিয়ে যাচ্ছিল।

তদন্ত অনুযায়ী, তারা যখন গাড়ি চালিয়ে চলে যাচ্ছিল, তখন ইসরাইলি বাহিনী তাদের বহনকারী কালো কিয়া গাড়িটির ওপর গুলি চালায় এবং এতে ৩০০টিরও বেশি গুলি লাগে।

গাড়িচালক হিন্দের চাচা এবং অন্যান্য আত্মীয়রা নিহত হন। তার ১৫ বছর বয়সী চাচাতো বোন লায়ানও নিহত হওয়ার আগে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (পিআরসিএস) ডিসপ্যাচারদের সাথে ফোনে কথা বলতে সক্ষম হয়।

একমাত্র জীবিত হিন্দ, তার আত্মীয়দের মৃতদেহের মাঝে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে ছিল। সে সাহায্যের জন্য আকুতি জানিয়ে বারবার পিআরসিএস-কে ফোন করে।

পরে সংস্থাটি তাকে উদ্ধারের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠায়, কিন্তু অবশেষে হিন্দ এবং প্যারামেডিক উভয়ের সাথেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

হিন্দ রজবের চাওয়া সাহায্যের আকুতি গাজার সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর প্রতিধ্বনিত হয়েছে। যা তাকে শিশুদের ওপর যুদ্ধের ভয়াবহতার এক বিশ্বব্যাপী প্রতীকে পরিণত করেছে। ‘দ্য ভয়েস অফ হিন্দ রজব’ নামক একটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত তথ্যচিত্র নির্মাণে অনুপ্রেরণা জোগায়। এই তথ্যচিত্রটি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার জেতে এবং বাফটা ও অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন লাভ করে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় গণহত্যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একাধিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষিত হয়েছে, ভেস্তে গেছে বা কার্যকর হতে ব্যর্থ হয়েছে। তবুও একটি বাস্তবতা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে: ফিলিস্তিনি শিশুরা এখনো সহিংসতার প্রধান শিকার হয়ে চলেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর, ২০২৩ থেকে ৭ অক্টোবর, ২০২৫-এর মধ্যে ৬৪,০০০-এরও বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে।

১০ অক্টোবর, ২০২৫-এ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরেও সহিংসতা অব্যাহত ছিল। পরবর্তী ৩০০ দিনে গাজায় অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন