হংকং ইস্যুতে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র

হংকং ইস্যুতে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র
Hong Kong

হংকংয়ে চীনের জাতীয় নিরাপত্তা আইন ঘিরে ঘোষিত জাতীয় জরুরি অবস্থার মেয়াদ আর বাড়াচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এর ফলে হংকংয়ের জন্য পূর্বের বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা পুনর্বহাল করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

বিজ্ঞাপন

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনায় অর্জিত সমঝোতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে বেইজিংয়ের কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পর হংকংয়ের বিশেষ বাণিজ্যিক মর্যাদা বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে জানায়, হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন করার মাধ্যমে চীনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘অস্বাভাবিক ও অসাধারণ হুমকি’ সৃষ্টি করেছে।

এরপর থেকে প্রতি বছর ওই জরুরি অবস্থার মেয়াদ নবায়ন করা হলেও এবার তা আর করা হয়নি।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, সম্প্রতি ওয়াশিংটন বেইজিংকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে জরুরি অবস্থার আদেশের মেয়াদ শেষ হতে দেওয়া হবে।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, জাতীয় জরুরি অবস্থার মেয়াদ শেষ হলেও ২০২০ সালের নির্বাহী আদেশের অন্যান্য বিধান এখনো কার্যকর রয়েছে। তিনি বলেন, মার্কিন আইনের আওতায় হংকংকে চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা বা বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত স্বায়ত্তশাসন আর অবশিষ্ট নেই।

অন্যদিকে, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জরুরি অবস্থার আওতায় নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত ৪৮ জনের মধ্যে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অন্য একটি আইনের আওতায় নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। তাদের ভাষ্য, একই ব্যক্তির ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

একসময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ভোগ করত হংকং। ১৯৯৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে চীনের কাছে হস্তান্তরের পর ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতির আওতায় অঞ্চলটি উল্লেখযোগ্য স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখেছিল।

কিন্তু ২০২০ সালে বেইজিং জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর করলে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ সত্ত্বেও হংকংয়ে ভিন্নমত দমনে কঠোর পদক্ষেপ শুরু হয়। এই আইন রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশের মতো অপরাধকে কঠোরভাবে দমন করার সুযোগ দেয়। এর আগে শহরটিতে ব্যাপক গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যার কিছু অংশ সহিংসতায় রূপ নেয়।

এদিকে হংকং সরকার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে এই ‘ইতিবাচক পরিবর্তনকে’ স্বাগত জানিয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় জোরদার হওয়ার আশা প্রকাশ করেছে।

সূত্র: এএফপি

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন