ইরানে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট হওয়ার বহু আগে ১৯৮৮ সালেই এটি দখলের চিন্তা করেছিলেন ট্রাম্প।
পারস্য উপসাগরে ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার (১৫ মাইল) দূরে অবস্থিত ছোট এই দ্বীপটির আয়তন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
মার্কিন কর্মকর্তারা একে ইরানের পুরো তেল সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দ্বীপটির গভীর পানির জেটিগুলো এই অঞ্চলের অল্প কয়েকটি জেটির মধ্যে অন্যতম। কেননা এটি সুপারট্যাঙ্কার ভেড়ানোর সক্ষমতা রয়েছে। ফলে তেল রপ্তানির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খার্গ দ্বীপ দিয়ে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। ফলে এটি দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান প্রাণকেন্দ্র।
১৯৮৪ সালের অবমুক্ত একটি সিআইএ নথিতে খার্গ দ্বীপের স্থাপনাগুলোকে “ইরানের তেল ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
খার্গ দ্বীপ দখলের ধারণা ট্রাম্পের জন্য নতুন নয়। চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার দ্বীপটিতে হামলা চালিয়েছে। এমনকি ১৯৮৮ সালেও, প্রেসিডেন্ট হওয়ার বহু আগে, ট্রাম্প দ্বীপটি দখলের ধারণা নিয়ে কথা বলেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে মতভেদ রয়েছে। হোয়াইট হাউসের একাংশের কর্মকর্তাদের মতে, খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া গেলে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) অর্থনৈতিক সক্ষমতায় বড় আঘাত হানা সম্ভব হবে এবং এতে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে প্রশাসনের আরেকটি অংশ এ ধরনের অভিযানে বিপুলসংখ্যক স্থলসেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাই তারা পরিকল্পনাটি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
সূত্র: সিএনএন।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


