আইসিসিতে যুক্তরাষ্ট্রকে যোগ দেওয়ার আহ্বান ইলহান ওমরের

আইসিসিতে যুক্তরাষ্ট্রকে যোগ দেওয়ার আহ্বান ইলহান ওমরের
মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ইলহান ওমর। ছবি: এপি

যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে এই যুদ্ধাপরাধ আদালতকে ‘পদ্ধতিগতভাবে নিষ্ক্রিয়’ করার প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে এটিই কংগ্রেসে প্রথম কোনো পাল্টা পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আদালতটি ভেঙে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার দুই দিন পর ওমরের এই বিল সামনে এলো।

ইলহান ওমর বলেন, ‘যেসব জায়গার ভুক্তভোগীদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই, সেখানে আইসিসি হলো ন্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। আমরা যদি সত্যিই মানবাধিকার ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করি, তাহলে আমাদের আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার শক্তিশালী করা উচিত, ক্ষুণ্ণ করা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত উদাহরণ তৈরি করা এবং দেখানো যে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।’

বিজ্ঞাপন

ইউরোপীয় আইনপ্রণেতাদের সমর্থন

ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারাও এই যুদ্ধাপরাধ আদালতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আইসিসি মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি—ট্রাম্প প্রশাসনের এমন দাবি তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মুখপাত্র আনোয়ার এল আনোনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি আমাদের সমর্থন দৃঢ়। আদালত, নির্বাচিত কর্মকর্তা, কর্মী বা আদালতের সঙ্গে সহযোগিতাকারীদের ওপর আক্রমণ বা হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের বৈরী আচরণের কথা ভুলে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলই আইসিসিকে সমর্থন করেছিল। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম তখন যুদ্ধাপরাধের তদন্তের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব স্পন্সর করেছিলেন। ইলহান ওমরও ২০২২ সালের এপ্রিলে একই ধরনের আইন উত্থাপন করেছিলেন। এবার তিনি সেই প্রস্তাবটি পুনরায় উত্থাপন করে ন্যায়বিচারে বিশ্বাসীদের এতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তার এই বিলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের ব্যাপক সমর্থন মিলবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

আইনি লড়াই ও মার্কিন নীতি

ইলহান ওমরের এই প্রস্তাব এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি মানবাধিকার সংস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সংস্থাগুলোর দাবি, ট্রাম্পের ২০২৫ সালের নির্বাহী আদেশের কারণে তারা পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরাইলের কথিত যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে আইসিসির তদন্তে সহযোগিতা করতে পারছে না।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছিলেন, আইসিসি আমেরিকার রাজনৈতিক ও আইনি ব্যবস্থার জন্য একটি হুমকি।

তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা সংবাদমাধ্যম 'দ্য গার্ডিয়ান'-কে জানিয়েছেন, রুবিও আন্তর্জাতিক আদালতের উদ্দেশ্য ও এখতিয়ারকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র আইসিসি গঠনকারী ২০০২ সালের ‘রোম সংবিধি’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি, তাই মার্কিন মাটিতে অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির নেই।

সাবেক যুগোস্লাভিয়া, রুয়ান্ডা, কম্বোডিয়া এবং সিয়েরা লিওনে সংঘটিত নৃশংসতার বিচারের সফলতার পর এই স্থায়ী যুদ্ধাপরাধ আদালতটি গঠিত হয়েছিল। বিশ্বের ১২৫টি দেশ বর্তমানে এই আদালতকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন