সন্দ্বীপে শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পালিত হয়নি ‘জুলাই শহীদ দিবস’

সন্দ্বীপে শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পালিত হয়নি ‘জুলাই শহীদ দিবস’
দক্ষিণ মগধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালন না করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসের অবহেলা, দায়িত্বহীনতা এবং তথ্য গোপনের কারণে দিবসটি যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) লিখিত নির্দেশনা থাকার পরও মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেননি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা। ফলে অধিকাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দিবসটি পালনের বিষয়ে কোনো নির্দেশনাই পাননি।

মুছাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. ইয়াছিন বলেন, ৭১-এর পর বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা চব্বিশের জুলাই। আমরা চাই আমাদের সন্তানরা ছোটবেলা থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানুক। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই দিবসটি পালন না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জুলাই শহীদ দিবস পালনের জন্য সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে একটি লিখিত নির্দেশনা পাঠানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে ক্লাস্টারভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম ও নাজিম উদ্দীনকে বিদ্যালয়গুলোতে দিবসটি পালনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ উঠেছে, ওই নির্দেশনা বিদ্যালয় পর্যায়ে পৌঁছানো হয়নি। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান দিবসটি পালনের বিষয়ে অবগতই হয়নি।

সন্দ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাঈন উদ্দিন বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে আমাদের জুলাই শহীদ দিবস পালনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

লায়ন মুস্তাফিজুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাহেদা বেগম বলেন, শিক্ষা অফিসের নির্দেশনার বাইরেতো আমরা কিছু করতে পারি না।

তবে ব্যতিক্রম ছিল বাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিক্ষা অফিস থেকে কোনো নির্দেশনা না পেলেও নিজ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের নিয়ে জুলাই বিপ্লব ও শহীদদের বিষয়ে আলোচনা করেছে বিদ্যালয়টি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুর কাদের বলেন, শিক্ষা অফিস থেকে কোনো চিঠি আমরা পাইনি। তবে ইউএনও মহোদয়ের একটি ফেসবুক পোস্ট দেখে আমরা এই অনুষ্ঠান করেছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হক দাবি করেছেন, ক্লাস্টারভিত্তিক প্রতিটি মেসেঞ্জার গ্রুপে জুলাই শহীদ দিবস পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমরা ক্লাস্টার ভিত্তিক প্রতিটি মেসেঞ্জার গ্রুপে নির্দেশনা দিয়েছি।

তবে মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে ওই নির্দেশনার কোনো কার্যকর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম ও নাজিম উদ্দীনের গাফিলতির কারণেই বিদ্যালয়গুলোতে নির্দেশনা পৌঁছায়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, জাতীয় এই দিবসটি পালনের জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে শিক্ষা কর্মকর্তাদের স্পষ্ট ও লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সরকারি আদেশ অমান্য করা এবং দায়িত্বে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরো বলেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের গাফিলতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন