চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের নিচ থেকে সর্বোচ্চ চূড়া পর্যন্ত লিফট স্থাপন এবং মন্দিরে ওঠার সিঁড়িগুলো আধুনিক ও নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ। শুক্রবার সীতাকুণ্ডে শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।
আসলাম চৌধুরী বলেন, চন্দ্রনাথ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র তীর্থস্থান। একই সঙ্গে এখানকার পাহাড়, মন্দির, ঝরনা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটন বিকাশের বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তাই প্রবীণ ও শারীরিকভাবে দুর্বল তীর্থযাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের নিচ থেকে সর্বোচ্চ চূড়া পর্যন্ত লিফটের ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান সিঁড়িগুলো আধুনিক ও নিরাপদ করার সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, চন্দ্রনাথকে বিচ্ছিন্নভাবে উন্নয়ন না করে সীতাকুণ্ডের পাহাড়, ঝরনা, লেক ও সমুদ্রসৈকতকে একটি সুনির্দিষ্ট পর্যটন নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে হবে। পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠলে দেশীয় পর্যটকদের পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারত থেকেও প্রচুর তীর্থযাত্রী ও পর্যটক আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন, আবাসন ও পর্যটননির্ভর বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তবে চন্দ্রনাথের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিবেশ ও ধর্মীয় ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখেই করা হবে বলে জানান তিনি। পাহাড়ের স্থিতিশীলতা, ভূমিধসের ঝুঁকি, পানি নিষ্কাশন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি সমীক্ষা ও অনুমোদন নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা, বিশুদ্ধ সুপেয় পানি, বিশ্রামস্থল, পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জরুরি চিকিৎসাসেবার সুব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিও জোর দেন।
জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের। প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে সীতাকুণ্ড বিএনপির সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা যেকোনো রাজনৈতিক সংগঠনে স্বাভাবিক হলেও তা বিভেদ বা সংঘাতে রূপ নেওয়া উচিত নয়। সব ভুল-বোঝাবুঝি ও মনোমালিন্য দূর করে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শপথ গ্রহণ ও পদ-পদবি নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশাকে সাময়িক উল্লেখ করে শিগগিরই এর অবসান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সীতাকুণ্ড উপজেলা শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি রতন কুমার নাথের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুনন্দ ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন চট্টগ্রাম চন্দ্রনাথ রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী পূর্ণব্রতানন্দ মহারাজ।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বামী হরিকৃপানন্দ মহারাজ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুরু, সদস্য সচিব মোরসালিন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সদস্য সচিব সালেহ আহমেদ সলু, মুজাহির উদ্দিন আশরাফ এবং শহীদুল্লাহ ভূঁইয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

