নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছে যুক্তরাষ্ট্র, আইনি লড়াই চালাতে সুযোগ পাচ্ছেন মাদুরো

আমার দেশ অনলাইন

নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছে যুক্তরাষ্ট্র, আইনি লড়াই চালাতে সুযোগ পাচ্ছেন মাদুরো
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। ছবি : সংগৃহীত

মাদক পাচারের মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সচল রাখতে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আইনি খরচ পরিশোধের পথ খুলে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ আলোচনার পর ওয়াশিংটন তাদের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় বিশেষ পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়েছে, যাতে ভেনেজুয়েলা সরকার তার আইনজীবীদের পারিশ্রমিক দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন

নিউইয়র্কের একটি আদালতে দাখিল করা নথিতে সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশ পায়। এর আগে নিষেধাজ্ঞার কারণে মাদুরোর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ ও অর্থ পরিশোধ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় মামলাটি বাতিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে এক অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। পরে তাদের নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয় এবং মাদক-সন্ত্রাসবাদে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগসহ একাধিক গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়। বর্তমানে তারা ব্রুকলিনের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন। তবে আদালতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

মাদুরোর প্রধান আইনজীবী ব্যারি পোল্যাক এর আগে আদালতে মামলাটি খারিজের আবেদন জানান। তার যুক্তি ছিল, নিষেধাজ্ঞার কারণে তার পারিশ্রমিক পরিশোধ সম্ভব হচ্ছে না, যা আসামির সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। তিনি বলেন, এতে মাদুরো তার পছন্দের আইনজীবী পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শুনানিতে বিচারক আলভিন হেলারস্টাইন সরাসরি মামলাটি বাতিল না করলেও আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারকে গুরুত্ব দেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, একজন অভিযুক্তকে আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। তার পর্যবেক্ষণের পরই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন তাদের অবস্থান নমনীয় করে।

সরকারি কৌঁসুলিরা অবশ্য দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে আরোপ করা হয়েছে। তবে বিচারক উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মাদুরো আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সরাসরি কোনো হুমকি নন এবং তিনি এখন মার্কিন হেফাজতেই রয়েছেন।

এই মামলার সূত্রপাত হয় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময়। তখন মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও গণতন্ত্র ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ এনে একাধিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মাদক পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা গঠন করা হয়।

মাদুরো বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের দিকে নজর রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন তিনি নিজের পছন্দের আইনজীবী নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারবেন। ফলে মামলাটির ভবিষ্যৎ কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন