২০২৭ সালের আর্টেমিস ৩ মিশনের নভোচারীদের নাম ঘোষণা করল নাসা

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

২০২৭ সালের আর্টেমিস ৩ মিশনের নভোচারীদের নাম ঘোষণা করল নাসা

চাঁদে পুনরায় মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বহুল প্রতীক্ষিত ‘আর্টেমিস ৩’ মহাকাশ অভিযানের নভোচারীদের নাম ঘোষণা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই মিশনের মূল দলে থাকছেন চারজন নভোচারী— আন্দ্রে ডগলাস, ফ্রাঙ্ক রুবিও, লুকা পারমিতানো এবং র‍্যান্ডি ব্রেসনিক। এছাড়া যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে মূল দলের বিকল্প হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য অভিজ্ঞ টেস্ট পাইলট বব হাইন্টজকে রাখা হয়েছে।

২০২৭ সালের শেষের দিকে নির্ধারিত এই দুই সপ্তাহের মিশনে নভোচারীরা মূলত মহাকাশে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবেন এবং ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণের প্রস্তুতি হিসেবে মহাকাশযান ডকিং (একে অপরের সাথে যুক্ত করার প্রক্রিয়া) অনুশীলন করবেন।

আর্টেমিস ৩ মিশনের মূল চার নভোচারী

ঘোষিত এই দলে কোনো নারী নভোচারী না থাকলেও, নির্বাচিত চারজনের রয়েছে বৈচিত্র্যময় ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা:

র‍্যান্ডি ব্রেসনিক (কমান্ডার): ৫৮ বছর বয়সী ব্রেসনিক এই দলের সবচেয়ে বয়স্ক সদস্য। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সাবেক টেস্ট পাইলট ও মেরিন কর্মকর্তা। ২০০৯ সালে নাসার স্পেস শাটল মিশনে অংশ নেওয়া ব্রেসনিকই এই দলের একমাত্র সদস্য, যাঁর আগের সেই বিখ্যাত শাটল কর্মসূচিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া ২০১৭ সালে তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আন্দ্রে ডগলাস (মিশন স্পেশালিস্ট): ৪০ বছর বয়সী ফ্লোরিডার এই প্রকৌশলীর জন্য এটিই প্রথম মহাকাশ যাত্রা। এর আগে চাঁদের চারপাশে ঘুরে আসা ‘আর্টেমিস ২’ মিশনে তিনি বিকল্প নভোচারী হিসেবে ছিলেন। ডগলাসের এই যাত্রা এক অনন্য ইতিহাস গড়বে, কারণ মহাকাশে যাওয়া ইতিহাসের কয়েকশ মানুষের মধ্যে তিনি হতে যাচ্ছেন মাত্র ২৪ জন আফ্রিকান-আমেরিকান (কৃষ্ণাঙ্গ) ব্যক্তিদের একজন।

ফ্রাঙ্ক রুবিও (মিশন স্পেশালিস্ট): ৫০ বছর বয়সী সালভাদোরান-আমেরিকান এই চিকিৎসক একসময় মার্কিন সেনাবাহিনীর ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার চালক ছিলেন। বর্তমানে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে একনাগাড়ে মহাকাশে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় (৩৭১ দিন) কাটানোর মার্কিন রেকর্ড।

লুকা পারমিতানো (পাইলট): ৪৯ বছর বয়সী পারমিতানো এই মিশনের একমাত্র অ-মার্কিন নাগরিক। ইতালির পাতের্নোতে জন্ম নেওয়া পারমিতানো সে দেশের বিমানবাহিনীর সদস্য ছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি প্রথম ইতালীয় হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।

সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ ও রকেটের বিস্ফোরণ নিয়ে উদ্বেগ

আর্টেমিস ৩ মিশনটি সরকারি ও বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্বে পরিচালিত হবে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে মোট তিনটি রকেট উৎক্ষেপণ করা হবে। এর মধ্যে একটি রকেটে করে চার নভোচারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানে চেপে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছাবেন। বাকি দুটি রকেটে থাকবে যথাক্রমে জেফ বেজোসের ‘ব্লু অরিজিন’ এবং ইলন মাস্কের ‘স্পেসএক্স’ কোম্পানির তৈরি ল্যান্ডারের মডেল। ওরিয়ন মহাকাশযানটি কক্ষপথে গিয়ে এই দুটি ল্যান্ডারের সাথে যুক্ত হওয়ার মহড়া চালাবে।

তবে গত ২৮ মে ফ্লোরিডায় ব্লু অরিজিনের একটি মনুষ্যবিহীন ‘নিউ গ্লেন’ রকেট পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় বিস্ফোরিত হওয়ায় কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিস্ফোরণের ফলে কেপ কানাভেরালের উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটির মারাত্মক ক্ষতি হয়।

অবশ্য নাসা এবং ব্লু অরিজিনের কর্মকর্তারা এই উদ্বেগকে উড়িয়ে দিয়েছেন। নাসার ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জেরেমি পারসন্স বলেন, “যেকোনো বিপর্যয়ই আমাদের জন্য শেখার সুযোগ। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে ২০২৭ সালের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই নিউ গ্লেন রকেট আর্টেমিস ৩-এর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যাবে।”

চীনের সাথে চাঁদে যাওয়ার লড়াই

এই মিশনের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো মহাকাশ গবেষণায় চীনের চেয়ে এগিয়ে থাকা। চীন ইতিমধ্যেই ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে এবং ২০২৪ সালে তারা ইতিহাসের প্রথম দেশ হিসেবে রোবটের মাধ্যমে চাঁদের দূরবর্তী অংশ (ফার সাইড) থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করে এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো মিশনের মাধ্যমে প্রথম চাঁদে মানুষ পাঠিয়েছিল। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে মেয়াদের শেষ হওয়ার আগেই মার্কিন নভোচারীদের পুনরায় চাঁদের মাটিতে নামাতে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আর্টেমিস ৩ মিশনের মাধ্যমেই চাঁদের মাটিতে মানুষের নামার কথা ছিল। তবে মহাকাশযাত্রায় নভোচারীদের জীবনের ঝুঁকি কমাতে এবং কারিগরি ত্রুটি এড়াতে গত ফেব্রুয়ারিতে পরিকল্পনা কিছুটা পরিবর্তন করা হয়। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, আর্টেমিস ৩ মিশনটি চাঁদের মাটিতে না নেমে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে, যা পরবর্তী চন্দ্র অভিযানের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেবে এবং ২০৩০ সালের আগে চীনের চেয়ে দ্রুত চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়তে সাহায্য করবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...