বেশি পডকাস্ট শুনলে চিন্তার জগৎ সংকুচিত হয়

বেশি পডকাস্ট শুনলে চিন্তার জগৎ সংকুচিত হয়

সারাক্ষণ পডকাস্ট, ভিডিও কিংবা অন্যের কথাবার্তা শুনতে থাকা মানুষের নিজের চিন্তার জগৎকে সংকুচিত করে দিতে পারে। অন্তত নিজের অভিজ্ঞতা থেকে এমনটাই মনে করছেন দ্য গার্ডিয়ানের লেখক র‍্যাচেল অ্যারোএস্টি। তার দাবি, পডকাস্ট শোনার অভ্যাস প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার পর তার মনে নতুন নতুন ভাবনা, পরিকল্পনা ও উপলব্ধি ফিরে এসেছে।

অ্যারোএস্টি জানান, তিনি কয়েক দশক ধরে পডকাস্টের ভক্ত ছিলেন। হাঁটা, বাজার করা, ঘর পরিষ্কার, রান্না, পোশাক পরা, গোসল কিংবা যাতায়াত—প্রায় প্রতিটি কাজের সময়ই তিনি পডকাস্ট শুনতেন। শুরুতে এসব অনুষ্ঠান তাকে আনন্দ দিত এবং মানসিকভাবে সঙ্গও দিত। বিশেষ করে মহামারির নিঃসঙ্গ সময়ে কিছু পডকাস্ট তার কাছে মানসিক স্বস্তির উৎস হয়ে উঠেছিল।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন, পডকাস্ট শোনা তার কাছে শুধু বিনোদন নয়, একধরনের অভ্যাসগত মানসিক আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। সব সময় অন্য মানুষের কথাবার্তা শুনতে থাকায় নিজের চিন্তার জন্য নীরব জায়গা থাকছে না। সমস্যা ছিল একা থাকাকে ভয় পাওয়া নয়; বরং নিজের চিন্তার সঙ্গে থাকার প্রয়োজনই যেন অনুভব করতেন না।

পরিবর্তনের সূচনা হয় একটি ট্রেনযাত্রায়। কোনো প্রযুক্তি বা পডকাস্ট ছাড়াই তিনি কয়েক ঘণ্টা নীরবে জানালার বাইরে পূর্ব ইংল্যান্ডের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে থাকেন। সেই সময় তার মনে হঠাৎ করে একের পর এক ভাবনা, পরিকল্পনা ও উপলব্ধি আসতে শুরু করে। তার মনে হয়, যেন মস্তিষ্ক নতুন করে কাজ শুরু করেছে।

এরপর তিনি পডকাস্ট শোনা প্রায় বন্ধ করে দেন। পরিবর্তে বেশি করে গান শুনতে শুরু করেন এবং নীরবতার সঙ্গে আবার অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। তার মতে, দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজগুলোও তখন চিন্তা করার সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়। বাইরে বের হলে আশপাশের বিষয়ও আগের চেয়ে বেশি লক্ষ্য করতে শুরু করেন।

অ্যারোএস্টি আরো বলেন, আগে কয়েক মিনিট কোনো কাজ ছাড়া অপেক্ষা করাও তার কাছে বিরক্তিকর মনে হতো। কিন্তু পডকাস্টের ওপর নির্ভরতা কমানোর পর তিনি একঘেয়েমিকে সহ্য করতে পারছেন, এমনকি কখনো কখনো উপভোগও করছেন। তার মতে, এই একঘেয়েমি ও নীরবতার মধ্যেই মস্তিষ্ককে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ দেওয়া যায়।

তিনি অবশ্য পুরোপুরি পডকাস্ট ছেড়ে দেননি। বিশেষ করে দৌড়ানোর সময় এখনো পডকাস্ট শোনেন। তবে তার হিসাবে, আগের তুলনায় মোট শোনার পরিমাণ অন্তত ৮০ শতাংশ কমেছে। তার উপলব্ধি হলো, সব সময় বাইরের শব্দ ও তথ্য দিয়ে মনকে ব্যস্ত না রেখে কিছুটা নীরবতা ও অবসর দিলে চিন্তা, আত্মপর্যালোচনা ও সৃজনশীলতার জন্য নতুন জায়গা তৈরি হতে পারে।

প্রযুক্তি ও ডিজিটাল বিনোদন আমাদের প্রতিদিনের অবসর সময় প্রায় পুরোপুরি দখল করে ফেলেছে। ফলে মানুষ নিজের সঙ্গে নীরবে থাকার সুযোগ কম পাচ্ছে। লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দেখায়, মাঝে মাঝে কোনো বাহ্যিক উদ্দীপনা ছাড়া থাকা—এমনকি কিছুটা বিরক্ত হওয়াও—মস্তিষ্ককে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ দিতে পারে। এটি অবশ্য লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি, কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন