হাদির হত্যাকারীদের ফেরত না দিলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই: রাশেদ খাঁন

হাদির হত্যাকারীদের ফেরত না দিলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই: রাশেদ খাঁন
ছবি: আমার দেশ

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, খুন, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে দেশব্যাপী সমালোচিত র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান র‍্যাবের অপকর্মের দায় বিএনপি সরকার বয়ে বেড়াতে পারে না। সে কারণে জনগণের দাবি ও প্রত্যাশা পূরণ করতে র‍্যাব বিলুপ্তি করে নতুন বাহিনী এসআরবি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন বাহিনী ন্যায় প্রতিষ্ঠায় জনগণের পাশে থেকে কাজ করবে। এক্ষেত্রে বিরোধীদলের যদি কোনো মতামত থাকে তবে তা সাদরে গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের সিদ্দিকীয়া আলিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ভারত থেকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি-না তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শেখ হাসিনা এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা হাদি হত্যাকারীদের ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব ভারতের কাছে রাখা হয়েছে। এই দুটি দাবি পূরণ হলেই কেবল প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়টি নিয়ে ভাবা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন কোনো দেশের চাপ বা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করবে না। দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভঙ্গুর অর্থনীতি ও সংকটাপন্ন একটি দেশকে সংস্কারের মাধ্যমে সুন্দর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ অবস্থায় বিরোধী দলগুলোরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। কিন্তু দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে বিরোধীদল সরকারের পাশে না দাঁড়িয়ে তারা রোড মার্চ নিয়ে ব্যস্ত। রোড মার্চ করে যদি তেল গ্যাসের সমস্যার সমাধান করা যেত বিএনপির সবার আগে রোড মার্চ করতো।

তিনি আরও বলেন, ছোট ছোট যেসব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে বসে সমাধান করা যায় সেগুলোকে বড় আকার দিয়ে সরকারকে বিব্রত করা কিংবা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা উচিত নয়।

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, সংসদে রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগের ভাষা ব্যবহার করছেন। তার মধ্যে আমি পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ছবি দেখতে পাই। আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা যে ভাষায় কথা বলেন রুমিন আপাও সে ভাষায় কথা বলছেন। তিনি বিএনপি থেকে বঞ্চিত হয়ে যে ক্ষোভ প্রকাশ কর‌ছেন সেটা তার স্বার্থগত রূপ।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে দলের সব নেতাকর্মীকে তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে বা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন