দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দিনের দরপতনের ধারাবাহিকতায় শেয়ারবাজারে গতকাল রোববার বড় পতন হয়েছে। লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমায় এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪১ পয়েন্ট কমেছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে দেশের শিল্প খাত এক মাসের বেশি সময় ধরে ধুঁকছে। তাতে শিল্প খাতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিল্প খাতের উৎপাদন ও ব্যবসায় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার আশু কোনো সমাধান নেই। ফলে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্ভূত এ পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরো জানান, চলমান গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে ভুগছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানিও। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। তাতে গতকাল ডিএসইএক্স সূচকটি কমে ৫,৬১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা জানান, দেশে বর্তমানে গ্যাস-বিদ্যুতের যে সংকট দেখা দিয়েছে, তা শিল্পের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে সমস্যা তৈরি করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ সমস্যার আশু সমাধানের কোনো আশার কথাও বলা হচ্ছে না। সরকারের একাধিক মন্ত্রী বলেছেন, রাতারাতি এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য কয়েক বছর সময় লাগবে। এ অবস্থায় শিল্পমালিকদের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও একধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। যার তাৎক্ষণিক প্রভাব শেয়ারবাজারে পড়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে গতকাল লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমতে থাকে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের। দিন শেষে সূচকের বড় ধরনের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়। ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪১ পয়েন্ট কমে ৫,৬১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট কমে ২,১২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ১,১২৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া মাত্র ৪৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩০৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এছাড়া ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫১৮ কোটি ৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৬৭ কোটি ১ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৫১ কোটি ২ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ২৪ লাখ টাকার। ১৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সায়হাম কটন।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে—প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, লাভেলো আইসক্রিম, বেক্সিমকো, মালেক স্পিনিং, এমএল ডাইং এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১২টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৭৫ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২১ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, বাজারে নানা ধরনের নেতিবাচক কথার প্রভাব পড়েছে। চলমান গ্যাস, বিদ্যুতের সংকট সহসাই কাটছে না। এর প্রভাব উৎপাদনে পড়বে। তবে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষায় পরামর্শ দেন তিনি।
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ আমার দেশকে বলেন, বাজারে উত্থান-পতন থাকবে। এটা স্বাভাবিক। তবে জ্বালানি সংকটে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

