নাইন-ইলেভেনের হামলায় যেভাবে বদলে গেছে যুক্তরাষ্ট্র

নাইন-ইলেভেনের হামলায় যেভাবে বদলে গেছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পররাষ্ট্রনীতি, বিমান চলাচল ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এক শতকের চার ভাগের এক ভাগ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের প্রভাব এখনো দেশটির সমাজে স্পষ্ট।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ১৯ দুর্বৃত্ত চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করে। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। তৃতীয় বিমানটি ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আঘাত করে। চতুর্থ বিমানটি যাত্রীদের প্রতিরোধের পর পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

হামলায় নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন নিউইয়র্কে। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স ছিল মাত্র আড়াই বছর। নিউইয়র্কে নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষের দেহাবশেষ শনাক্ত করা হয়েছে। এখনো অনেকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

যুদ্ধ ও নিরাপত্তা নীতিতে বড় পরিবর্তন

৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ও ইরাকে যুদ্ধ শুরু করে। দ্রুত সামরিক বিজয়ের প্রত্যাশা থাকলেও দুই যুদ্ধই দীর্ঘস্থায়ী হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দর ও বিমানযাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে কঠোর করা হয়। যাত্রীদের তল্লাশি, ব্যাগ পরীক্ষা এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় ফেডারেল সরকারের ভূমিকা বাড়ে। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও গঠন করা হয়। অভিবাসী ও শরণার্থীদের বিষয়ে সরকারের কঠোর নীতি নিয়ে পরবর্তী সময়ে দেশটিতে নানা বিতর্ক ও প্রতিবাদ দেখা যায়।

হামলার ক্ষত এখনো বহন করছেন অনেকে

৯/১১-এর পর উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া অনেক অগ্নিনির্বাপক, পুলিশ কর্মকর্তা ও জরুরি সেবাকর্মী দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। ক্যানসার, শ্বাসযন্ত্রের রোগসহ বিভিন্ন অসুস্থতার সঙ্গে ৯/১১-এর সংযোগ পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হেলথ প্রোগ্রামে ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি মানুষ নিবন্ধিত হয়েছেন।

নিউইয়র্কের ফায়ার বিভাগ ১৫ হাজার অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি সেবাকর্মীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করেছে। ১২ হাজারের বেশি মানুষ ৯/১১-সংশ্লিষ্ট শারীরিক বা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ছড়িয়ে পড়া বাতাসের দূষণ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক শহর ৯/১১-পরবর্তী বায়ুর মান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথির কিছু অংশে কর্মকর্তারা ওই সময় সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জানতেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

পুনর্গঠিত হয়েছে হামলার স্থান

২৫ বছর পর নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটন আবার জমজমাট এলাকায় পরিণত হয়েছে। পুনর্নির্মিত ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এখন নিউইয়র্কের অন্যতম প্রধান স্থাপনা। ভবনটির উচ্চতা প্রতীকীভাবে ১ হাজার ৭৭৬ ফুট রাখা হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এলাকায় ৯/১১ মেমোরিয়াল ও মিউজিয়ামে প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার মানুষ আসেন। পেন্টাগনেও নিহতদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে বছরে ১০ লাখের বেশি মানুষ যান। পেনসিলভানিয়ায় বিধ্বস্ত ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রীদের স্মরণেও নির্মিত হয়েছে স্মৃতিসৌধ।

২৫ বছর পরও ‘ভুলে না যাওয়ার’ বার্তা

৯/১১-এর ২৫তম বার্ষিকীতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কোথাও স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে, কোথাও আলো জ্বালিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হচ্ছে। এক প্রজন্মের কাছে ৯/১১ একটি প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা। আর নতুন প্রজন্মের কাছে এটি ইতিহাসের একটি ভয়াবহ অধ্যায়। তবে ২৫ বছর পরও ওই হামলার স্মৃতি, ক্ষয়ক্ষতি এবং এর পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের জীবনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলছে।

সূত্র: এনবিসি নিউইয়র্ক

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন