কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা, এখন কী হবে ট্রাম্পের

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা, এখন কী হবে ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট-কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। এতে নতুন আইন পাস ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে চাপে পড়বে ট্রাম্প প্রশাসন।

আইন প্রণয়ন

বিজ্ঞাপন

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর রিপাবলিকানদের দলীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকে দিতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রথম ১০০ ঘণ্টায় শুল্ক প্রত্যাহার, ইরান যুদ্ধ বন্ধ এবং স্বাস্থ্যবিমার ব্যয় কমানোর প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

তবে এসব প্রস্তাব আইনে পরিণত করা কঠিন। সিনেটে কোনো বিল ভোটাভুটির পর্যায়ে নিতে সাধারণত ৬০ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। এ ছাড়া কোনো বিলে ট্রাম্প ভেটো দিলে তা বাতিল করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগবে। বাজেট ও করসংক্রান্ত কিছু বিলে অবশ্য বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য।

তদন্তের ক্ষমতা বাড়বে

প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের সুযোগ বাড়বে ডেমোক্র্যাটদের। নথিপত্র ও সাক্ষীদের তলব করার ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প এবং তার পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে পারেন তারা।

এছাড়া বিচার বিভাগ (ডিওজে), এফবিআইসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি উঠেছে। ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস বলেছেন, জনগণের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

ট্রাম্পের অভিশংসন কি সম্ভব

ট্রাম্পকে অভিশংসনের দাবি তুলেছেন ডেমোক্র্যাটদের কেউ কেউ। তবে এ বিষয়ে দলটির মধ্যে মতভেদ রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তাকে অভিশংসন করা সম্ভব হলেও পদ থেকে সরাতে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন।

অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবের সম্ভাবনাও রয়েছে। ইরান, ভেনেজুয়েলা ও ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাব তুলেছেন রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি। ডেমোক্র্যাট নেতা জেফরিসও হেগসেথকে দায়িত্ব থেকে সরানোর পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন।

ক্ষমতা হস্তান্তরের আগের সময়

নতুন কংগ্রেসের সদস্যরা আগামী ৩ জানুয়ারি শপথ নেবেন। এর আগে ৯ নভেম্বর বর্তমান কংগ্রেসের অধিবেশন বসবে। তাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন সরকারি তহবিল অনুমোদন করা। তা না হলে আবারও সরকারি কার্যক্রমে অচলাবস্থা বা শাটডাউন দেখা দিতে পারে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটি হবে চতুর্থ শাটডাউন।

নিয়োগে বাধার মুখে ট্রাম্প

মন্ত্রিসভার সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন সিনেটের অনুমোদন সাপেক্ষ। ফলে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয় ট্রাম্পের নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা।

বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। রক্ষণশীল বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস ও স্যামুয়েল আলিটোর বয়স যথাক্রমে ৭৮ ও ৭৬ বছর। তবে তাদের কেউই এখনই অবসরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেননি। অন্যদিকে মন্ত্রিসভার সদস্যদের বরখাস্ত করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকায় ট্রাম্প চাইলে তাদের পরিবর্তন করতে পারবেন।

সূত্র: এবিসি নিউজ

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন