অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ে ভরাট হয়ে গেছে চ্যানেল

আরিচা-কাজীরহাট নৌ রুটে বর্ষায়ও লঞ্চ-ফেরি চলাচলে বিঘ্ন

আরিচা-কাজীরহাট নৌ রুটে বর্ষায়ও লঞ্চ-ফেরি চলাচলে বিঘ্ন
অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ে ভরা বর্ষাতেও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ছবি: আমার দেশ

সারা বছর ড্রেজিং করেও সোজা পথে নৌ চ্যানেল সচল রাখতে পারেনি বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং ইউনিট। অপরিকল্পিত ড্রেজিং এবং অনিয়ম ও দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা খরচ দেখিয়ে নদীতে নামকায়াওয়াস্তে মাটি কেটে স্রোতের উজানেই ফেলা হয়েছিল ড্রেজিং করা মাটি। পানির স্রোতে উজানের মাটি এসে ভরাট হয়ে গেছে নির্দিষ্ট চ্যানেল। ফলে আরিচা ঘাটের অদূরেই চর পড়েছে। ভরা বর্ষায়ও আরিচা-কাজীরহাট নৌ রুটে প্রায় দুই কিলোমিটার ঘুরে ফেরি চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএর অপরিকল্পিত ড্রেজিং, অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারণে ভরা বর্ষায়ও আরিচা-কাজীরহাট নৌ রুটে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৫ সালের শুষ্ক মৌসুমে এই নৌ রুটের আরিচা ঘাটের পশ্চিমে নৌ চ্যানেলে ডুবোচর দেখা দেয়। ওই সময় বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং ইউনিট উক্ত চ্যানেল খনন করে ড্রেজিং করা মাটি নদীর মাঝে স্রোতের বিপরীতে ফেলে। ওই মাটি স্রোতে গড়িয়ে আবার চ্যানেলে এসে পড়ে চ্যানেল ভরাট হয়ে যায়। ফলে কোটি কোটি টাকা খরচ দেখানো হলেও উক্ত ড্রেজিংয়ে কোনো লাভ হয়নি।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, আরিচা ঘাটের অদূরে চরের কারণে পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরে ফেরি চলাচল করছে। আরিচা-কাজীরহাট নৌ রুটে পাঁচটি ফেরি চলাচল করছে। এসব ফেরি দিয়ে প্রতিদিন ৩০টি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব। কিন্তু গাড়ি কমে যাওয়ায় ১২/১৩টি ট্রিপ হচ্ছে। আরিচা ঘাটের অদূরে চরের কারণে পাঁচ কিলোমিটার বেড়ে ১৩ কিলোমিটার নৌ রুটের দূরত্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ কিলোমিটার। এতে ফেরি পারাপারে সময় এবং জ্বালানি খরচও বেশি হচ্ছে। এসব ব্যাপারে লঞ্চ মালিক মো. আরিফ হোসেন বলেছেন, বিআইডব্লিউটিএর অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের কারণে আরিচা-কাজীরহাট নৌ রুটের সোজা চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে গেছে। ড্রেজিং করা মাটি স্রোতের বিপরীতে নদীতে ফেলায় সে মাটি স্রোতে আবার চ্যানেলে পড়ে ভরাট হয়ে যায়। যে কারণে ড্রেজিংয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করেও কোনো লাভ হয়নি।

ট্রাকচালক মোসলেম উদ্দিন বলেন, সহজ ও আরামদায়ক চলাচলের জন্যই আমরা আরিচা-কাজীরহাট নৌরুটে চলাচল করে থাকি। আগে এক থেকে দেড় ঘণ্টায় ফেরি পার হতাম। কিন্তু এখন ঘুরেফেরি চলাচল করায় সময় অনেক বেশি লাগছে।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসির আরিচা ঘাটের ম্যানেজার মো. আবু আব্দুল্লাহ বলেন, ২০২৫ সালের শুষ্ক মৌসুমে ড্রেজিং করেও আরিচা-কাজীরহাট নৌ রুটের নির্ধারিত চ্যানেলটি সচল রাখা সম্ভব হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয় বিআইডব্লিউটিএ। এরপর পাঁচ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরে ফেরি চলাচল করছে। এতে সময় বেশি লাগছে এবং জ্বালানি খরচ বেশি হচ্ছে। সময় বেশি লাগা এবং বাথুলীতে ওয়েট স্কেলের জন্য এই রুটে ফেরি পারাপারের গাড়ি আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।

বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ফেরি কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিসি এবং স্থানীয়দের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে আরিচা ঘাটের অদূরে বন্ধ চ্যানেলটি সচল করতে গত শনিবার থেকে আমরা দুটি ড্রেজার দিয়ে খনন কাজ শুরু করেছি। প্রাথমিকভাবে দুই কিলোমিটার খনন করলে চ্যানেলটি সচল হবে। এতে দূরত্ব কমে আসবে এবং সময় সাশ্রয় হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...