অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা যাচাই এবং অগ্নিনিরাপত্তা প্রস্তুতি আরও জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদরদপ্তর ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ মহড়ায় উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। এ সময় বেবিচকের অন্যান্য সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে মহড়ার বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
বেবিচক সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত অগ্নিনির্বাপণ মহড়ায় চিফ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল। অন্যদিকে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় অনুষ্ঠিত অগ্নিনির্বাপণ মহড়ায় চিফ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেবিচকের সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম।
মহড়ায় অগ্নিকাণ্ডের একটি অনুশীলনমূলক পরিস্থিতি তৈরি করে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সাড়া প্রদান, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের বিষয়গুলো বাস্তবভিত্তিকভাবে অনুশীলন করা হয়।
বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক পর্যায়ে করণীয়, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা, নিরাপদে স্থান ত্যাগ এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহারের বিভিন্ন কৌশল মহড়ায় প্রদর্শন ও অনুশীলন করা হয়। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ, সমন্বয় এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও যাচাই করা হয়।
মহড়া প্রত্যক্ষকালে বেবিচক চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি জরুরি পরিস্থিতিতে জানমাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সচেতনতা এবং সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটের সমন্বিত প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বিমানবন্দর ও এভিয়েশন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক অবকাঠামো ও সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মহড়ার মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রস্তুতি ও দক্ষতা আরও বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের বাস্তবমুখী মহড়ার মাধ্যমে বিদ্যমান অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সম্ভাব্য ঘাটতি চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হয়। মহড়ায় প্রাপ্ত পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
উল্লেখ্য, আজকের কার্যক্রমটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত ও প্রশিক্ষণমূলক মহড়া। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি, দক্ষতা ও পারস্পরিক সমন্বয় যাচাই এবং বেবিচকের সার্বিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করাই ছিল এ মহড়ার মূল উদ্দেশ্য।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


