ইরান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের একটি প্রস্তাব গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নাকচ হয়ে গেছে। ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাবটি এমন এক সময়ে খারিজ হলো, যার মাত্র এক দিন পরেই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সময়সীমা (ডেডলাইন) শেষ হতে চলেছে।
প্রস্তাবটি ৪৭-৫০ ভোটে পরাজিত হয়। রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স এবং র্যান্ড পল দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম সুসান কলিন্স যুদ্ধবিরোধী কোনো প্রস্তাবে সমর্থন দিলেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে একমাত্র জন ফেটারম্যান এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।
১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার রেজোলিউশন’ অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন। গত ২ মার্চ ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এই সামরিক অভিযান সম্পর্কে কংগ্রেসকে অবহিত করেছিল, যার ৬০ দিনের সময়সীমা আজ শুক্রবার শেষ হচ্ছে। এই আইনের অধীনে, কংগ্রেস যদি যুদ্ধের অনুমোদন না দেয় অথবা প্রেসিডেন্ট যদি সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিনের সময় চেয়ে আবেদন না করেন, তবে শুক্রবারের পর ইরানে সামরিক তৎপরতা চালানো ফেডারেল আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।
সিনেটর সুসান কলিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, `কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমাহীন নয়। সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ বা শান্তির সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের অপরিহার্য ভূমিকা রয়েছে। এই ৬০ দিনের সময়সীমা কোনো সাধারণ পরামর্শ নয়, এটি একটি আইনি বাধ্যবাধকতা।‘
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই আইনের ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিনেটের এক শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেন, বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চলায় ৬০ দিনের ওই ‘ক্লক’ বা সময়সীমা সাময়িকভাবে বন্ধ আছে। ডেমোক্র্যাটরা এই ব্যাখ্যার তীব্র বিরোধিতা করে একে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করেছেন।
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই যদি শুক্রবারের পর যুদ্ধ অব্যাহত থাকে, তবে ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন। সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, `আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।‘
যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের ক্ষমতা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে আদালত সাধারণত হস্তক্ষেপ করতে চায় না। পাঁচ দশকের ইতিহাসে ওয়ার পাওয়ার রেজোলিউশন এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে পারেনি। মূলত আইনি অস্পষ্টতাকে কাজে লাগিয়েই প্রশাসন তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন, দ্য গার্ডিয়ান
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

