হরমুজ বন্ধ থাকায় বিকল্প রুটে চলছে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য

আমার দেশ অনলাইন

হরমুজ বন্ধ থাকায় বিকল্প রুটে চলছে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য
ছবি: এপি

ইরান যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সমুদ্রপথে গালফ অঞ্চলের দেশগুলোতে পৌঁছাতে না পেরে এখন বিকল্প স্থলপথ ব্যবহার করছেন জাহাজ মালিক ও আমদানিকারকেরা।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতের বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের কারণে গত দুই মাস ধরে বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহর মতো গন্তব্যগুলোতে সরাসরি জাহাজ পৌঁছাতে পারছে না। ফলে জাহাজ মালিকেরা এখন খাদ্যদ্রব্য ও শিল্পজাত পণ্য ট্রাকের মাধ্যমে গন্তব্যে পাঠাতে বিকল্প স্থল করিডোর খুঁজে নিয়েছেন।

লোহিত সাগরের সৌদি বন্দর জেদ্দা এখন এই অঞ্চলের নতুন বাণিজ্যিক ‘হাব’ বা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এমএসসি, সিএমএ সিজিএম, মারস্ক এবং কস্কোর মতো বিশ্বের নামী জাহাজ কোম্পানিগুলো সুয়েজ খাল হয়ে জেদ্দা বন্দরে পণ্য নামাচ্ছে। এরপর সেখান থেকে মরুভূমির হাইওয়ে দিয়ে ট্রাকের বহর শারজাহ, বাহরাইন ও কুয়েতে পণ্য নিয়ে যাচ্ছে।

তবে মালবাহী পরিবহনের এই ব্যাপক চাপের কারণে জেদ্দা বন্দরে জট তৈরি হয়েছে। ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার ‘ওভারসি’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা আর্থার বারিলার দে দ্য বলেন, ‘জেদ্দা বন্দরটি এই বিশাল পরিমাণ আমদানিকৃত পণ্য সামলানোর মতো আকারে তৈরি নয়, ফলে সেখানে এখন তীব্র যানজট ও বন্দর জটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।’

শিপিং কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, তারা এখন হরমুজ প্রণালির বাইরে থাকা তিনটি বন্দর-ওমানের সোহার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান ও ফুজাইরাহ বন্দর ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এছাড়া ইরাকের বাগদাদ ও বসরায় পণ্য পাঠানোর জন্য জর্ডানের আকাবা বন্দরকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে একটি তুর্কি করিডোর দিয়ে উত্তর ইরাকেও পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন