দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ভেঙে প্রতারণা

শ্রীপুরে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও ভাড়াটিয়া

উপজেলা প্রতিনিধি, শ্রীপুর (গাজীপুর)

শ্রীপুরে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও ভাড়াটিয়া
ছবি: আমার দেশ

গাজীপুরের শ্রীপুরে দীর্ঘদিনের আস্থা ও সম্পর্ককে পুঁজি করে এক অবিশ্বাস্য প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ২৫ বছরের পরিচিত একজন ভাড়াটিয়া, যাকে পরিবারের সদস্যের মতোই বিশ্বাস করতেন বাড়ির মালিক পক্ষ, সেই মানুষই পরিকল্পিতভাবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে হঠাৎ উধাও হয়ে গেছেন।

শুক্রবার ভুক্তভোগী পরিবার সাংবাদিকদের কাছে ঘটনাটি তুলে ধরলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া গিলারচালা (২নং সিএন্ডবি বাজার) এলাকায়।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ অনুযায়ী, বরিশালের নতুল্লা বাসস্টেশন এলাকার মৃত হাশেম আলী হাওলাদারের ছেলে বাবুল হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে মজিবুর রহমানের বাড়িতে পরিবারসহ ভাড়া থাকতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গড়ে ওঠে আত্মীয়তার মতো সম্পর্ক।

মজিবুর রহমানের স্ত্রী আছমা আক্তার জানান, শুরুতে বাবুল ও তার স্ত্রী স্থানীয় একটি কারখানায় চাকরি করতেন। পরে অটোরিকশা কেনার কথা বলে তিনি আর্থিক সহায়তা চান। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আছমা আক্তার একটি অটোরিকশা কিনে দিলে বাবুল সেটি চালিয়ে ধীরে ধীরে টাকা পরিশোধ করেন। এতে তার প্রতি বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়।

এই বিশ্বাসকেই পুঁজি করে বাবুল আবারও একটি সিএনজি কেনার প্রস্তাব দেন। তার কথায় আস্থা রেখে আছমা আক্তার ডিএসকে নামের একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা তুলে দেন। কিন্তু এরপর থেকেই বাবুলের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়।

কয়েক দিন আগে আছমা আক্তার পরিবারসহ বাইরে বেড়াতে গেলে সেই সুযোগেই বাবুল তার পরিবার নিয়ে বাসা ছেড়ে পালিয়ে যান। বিকেলে ফিরে এসে তার রুমে তালা ঝুলতে দেখে সন্দেহ হয়। পরে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পরবর্তীকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু এই পরিবারই নয়—এলাকার আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও তিনি টাকা ধার নিয়েছেন। স্থানীয় রুবিয়া নামের এক নারীর কাছ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মুদি দোকান, কাপড়ের দোকানসহ বিভিন্ন জায়গা থেকেও ধার করে গা ঢাকা দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রতারণার পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

এই ঘটনায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আছমা আক্তারের পরিবার। এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। আয়-রোজগারের স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া এই পরিবার এখন ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আতাবুল্লাহ বলেন, বাবুল হাওলাদারকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে চিনতাম। একই এলাকায় এত বছর বসবাস করার কারণে তাকে সবাই বিশ্বাস করত। কিন্তু সে যে এভাবে পরিকল্পিতভাবে মানুষকে ঠকিয়ে টাকা নিয়ে পালাবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। তার এই প্রতারণায় শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকার মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত । আমরা দ্রুত তার গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের পরিচিত একজন মানুষের এমন প্রতারণায় হতবাক স্থানীয়রা। অনেকেই বলছেন, বিশ্বাসই আজ সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমদ জানান, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন