চাঁদপুরের মতলব উত্তর হাজী মো. ছিদ্দিকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও চারাগাছ বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পরিবেশের প্রতি সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. সাইফুল ইসলাম, সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মিয়া মনজুর আমীন স্বপন।
এ সময় বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও দেওয়ান আইসিটি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মো. জুলহাস, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্যের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, মানসম্মত পাঠদান এবং শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বিত দায়িত্ববোধ। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাঠদানে আগ্রহী করে তুলতে পরিবার ও বিদ্যালয়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রধান অতিথি মাহমুদা কুলসুম মনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানান। তিনি অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের পড়াশোনার নিয়মিত খোঁজখবর রাখা এবং তাদের নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে ভূমিকা রাখার প্রতি তাগিদ দেন।
বিশেষ অতিথি মো. সাইফুল ইসলাম শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধির পাশাপাশি পাঠদানে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী প্রকৌশলী মো. জুলহাস বলেন, একটি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন শুধু শিক্ষক বা পরিচালনা পর্ষদের একার দায়িত্ব নয়। প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বর্তমান শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি বিদ্যালয়কে আদর্শ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।
তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির চারাগাছ বিতরণ। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজ বিদ্যাপীঠ গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে চারাগাছ তুলে দেওয়া হয়।
বক্তারা উল্লেখ করেন, গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেটির পরিচর্যার দায়িত্বও শিক্ষার্থীদের নিতে হবে, যা তাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ তৈরিতে সাহায্য করবে।
সমাবেশে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, ঝরে পড়া রোধ, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক ও শিক্ষাবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
শেষ পর্বে উপস্থিত সকলেই বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

