জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে সুশাসনের ক্ষেত্রে জবাবদিহির ঘাটতিই অনেক সমস্যার মূল কারণ। আধুনিক সমাজ, এমনকি গণতান্ত্রিক দেশগুলোও ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের প্রকৃত অর্থে জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। শুধু নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে জবাবদিহি করাই যথেষ্ট নয়; ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড ও সিদ্ধান্তের জন্য প্রকৃত অর্থে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ‘খাজানাহ মেগাট্রেন্ডস ফোরাম ২০২৬’-এর উদ্বোধনী বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এবারের ফোরামের মূল আলোচ্য ছিল ক্ষমতার ব্যবহার এবং যারা ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, তাদের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
আনোয়ার বলেন, বৈশ্বিক ও জাতীয় শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহির বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। তার বিশ্বাস, এই ঘাটতিই অনেক সমস্যার মূল উৎস। বিশ্বে বিভিন্ন সংকট রয়েছে। অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা, একতরফাভাবে আরোপ করা শুল্ক, চলমান যুদ্ধ এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর অবিচারের মতো সমস্যাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে হবে না। এসব সমস্যার সঙ্গে শাসনব্যবস্থা ও ক্ষমতার জবাবদিহির প্রশ্ন সরাসরি যুক্ত।
তিনি বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—জাতীয় ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থাকে কীভাবে আরো কার্যকর করা যায় এবং যারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন, তাদের সেই সিদ্ধান্তের পরিণতির জন্য কীভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা যায়।
ফোরামে খাজানাহ ন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল ফয়সল ওয়ান জাহিরও ক্ষমতার ওপর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, জনগণের পক্ষ থেকে যাদের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাদের জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে।
আনোয়ার জানান, খাজানাহ মেগাট্রেন্ডস ফোরাম ২০২৬-এর প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু তিনি শুক্রবার মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করবেন। তার বক্তব্যে মূলত ক্ষমতার ব্যবহার, প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি এবং জবাবদিহিকে কার্যকর সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্র: ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে ও মালয়েশিয়া নিউজ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


