চার দশক ধরে জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছিল কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার তাহেরা জুনাব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। অবশেষে সেই অবহেলার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। দৈনিক আমার দেশে সংবাদ প্রকাশের পর বিদ্যালয়টির জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী ইকবাল স্বাক্ষরিত চিঠিতে নতুন ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২৬ জুলাই দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় ‘চার দশক ধরে অবহেলিত কুমিল্লার তাহেরা জুনাব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদন আসে।
দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছিল শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের সংকট, আধুনিক শৌচাগার ও লাইব্রেরির অভাব এবং প্রয়োজনীয় বেঞ্চ না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের।
বিশেষ করে বৃষ্টি ও ঝড়ের সময় আতঙ্কে থাকতে হতো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। জরাজীর্ণ ভবনের কারণে দিন দিন শিক্ষার্থীও কমে যাচ্ছিল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
নতুন ভবনের অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসলিমা আক্তার দৈনিক আমার দেশকে জানায়, ‘আমাদের স্কুলে ক্লাসরুমের সংখ্যা খুব কম। ভবনে ফাটল ধরে আছে। নতুন ভবন হবে জেনে আমরা খুবই আনন্দিত।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল হোসেন গত ৩২ বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। নতুন ভবনের অনুমোদনে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ছাত্রীদের জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান করতে হয়েছে। নতুন ভবনের অনুমোদন পাওয়ায় আমরা আনন্দিত।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘গত ১৪ বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছি। ভবনের জন্য যখনই আবেদন করেছি, তখন নানা প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে রাজনীতি আমার পছন্দ নয়। এখানে এলাকার মেয়েরা পড়ালেখা করতে আসে। জরাজীর্ণ ভবনের কারণে দিন দিন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে অনেক শিক্ষার্থী চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও শিক্ষক হয়েছেন। এখন নতুন ভবনের অনুমোদন হয়েছে। আশা করছি, এখান থেকে আরও মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি হবে।’
নতুন ভবন অনুমোদনের পেছনে পরামর্শ ও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সাইফুল হাসান। তিনি দৈনিক আমার দেশকে বলেন, ‘আমার দেশের সংবাদটি প্রকাশের পর ভবনটি পেতে সহজ হয়েছে। সংবাদটি দেখার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন ভবনের অনুমোদন দিয়েছে। মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।’
দীর্ঘদিনের দাবি ও দুর্ভোগের পর নতুন ভবনের অনুমোদনকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের আতঙ্ক থেকে মুক্ত হয়ে নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান করতে পারবে শিক্ষার্থীরা।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-ac15c0-720x405.webp)