আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্য দেশের ৭ কোটি মানুষকে মোবাইল ইন্টারনেটের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ এখনো টু-জি ফোন (বাটন ফোন) ব্যবহার করে। ১৪ কোটি ফোন ব্যবহারকারীর এই ৫০ শতাংশ মানুষকে আমরা রাতারাতি স্মার্টফোনে নিয়ে আসতে পারবো না।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘স্পেকট্রাম ফর এ কানেক্টেড বাংলাদেশ: এনাবলিং ইন্টারনেট ফর অল’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রেহান আসাদ আসিফ বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মোবাইল ফোন এখনো টু-জি। সর্বশেষ হিসাবে দেশে প্রায় ১৪ কোটি মোবাইল ফোন থাকলে এর অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় ৭ কোটি ফোন ব্যবহারকারীকে রাতারাতি স্মার্টফোনে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। তবে সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এ পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বাজেটের দুই সপ্তাহ আগে আমরা এই সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। শিল্পের সবাই, নির্মাতারা মিলে আলোচনা করে একটি সমাধান বের করেছেন। তারা এসে দেখিয়েছেন- এ ধরনের ফোন তৈরি করা সম্ভব। শুরুতে ৩ হাজার টাকার মধ্যে ফোন তৈরি সম্ভব কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাতারা ৭ দিনের মধ্যে বিল অব ম্যাটেরিয়াল তৈরি করে দেখান, ৩ হাজার টাকায় এটি তৈরি করা সম্ভব নয়। তবে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে তৈরি করা সম্ভব।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজার পর্যালোচনা করে সবচেয়ে কম দামের অ্যান্ড্রয়েড ফোন ভারতের রিলায়েন্সে পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রিলায়েন্স প্রায় ৩৯ ডলারে একটি ফোন বিক্রি করছে। বিষয়টি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ফোনটির পুরোটা টাচস্ক্রিন নয়; প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ টাচস্ক্রিন এবং এক-তৃতীয়াংশ কিপ্যাড। এতে স্ক্রিনের আকার কমিয়ে ও কিপ্যাড ব্যবহার করে প্রায় ৬ ডলার খরচ কমানো হয়েছে। এই মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশের নির্মাতারাও কম দামের স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
মোবাইল অপারেটরদেরও এ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করে কো-ব্র্যান্ডিং এবং ফোনের সঙ্গে ভয়েস ও ডাটা প্যাকেজ বান্ডেল করার প্রস্তাব দেন তিনি।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতকে শুধু গ্রাহক বা অপারেটরের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। বরং মানুষ, ব্যবসা ও সরকার- এই তিন পক্ষকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুটি বিষয় নিয়ে অভিযোগ করে আসছে- সেবার মান ও দাম। সেবার মান বলতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে কলড্রপ। কোনো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী শতভাগ সঠিকভাবে পরিচালিত হলেও কলড্রপ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর পেছনে অসংখ্য কারিগরি কারণ থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) মানদণ্ডেও নির্দিষ্ট মাত্রার কলড্রপ গ্রহণযোগ্য ধরা হয়েছে।
মোবাইল অপোরেটরদের সংগঠন এমটবের প্রেসিডেন্ট জিয়াদ সাতারা বলেন, বাংলাদেশে মোবাইল অপারেটরদের মোট রাজস্বের অন্তত ১৬ শতাংশ স্পেকট্রাম ফি পরিশোধে ব্যয় হয়। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে যেখানে এ হার গড়ে ১০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক গড় মাত্র ৮ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশের ব্যয় অনেক বেশি।
টিআরএনবি সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, বাংলালিংকের সিইও ইওহান বুসে, টেলিকম বিশেষজ্ঞ নূরুল কবির ও এমটব মহাসচিব লে. কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


