নতুন প্রজাতির বিশাল আকৃতির ডায়নোসর আবিষ্কার

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

নতুন প্রজাতির বিশাল আকৃতির ডায়নোসর আবিষ্কার
ছবি: সংগৃহীত

এই ডায়নোসরটি ১০০ থেকে ১২০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করত। অর্থাৎ বিখ্যাত টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্সের চেয়েও প্রায় ৪০ মিলিয়ন বছর আগে এদের অস্তিত্ব ছিল।

থাইল্যান্ডে মাটি খুঁড়ে পাওয়া জীবাশ্ম থেকে বিশাল আকৃতির ও লম্বা গলার নতুন এক প্রজাতির ডায়নোসর শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। এর নাম দেওয়া হয়েছে 'নাগাটাইটান'।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় ডায়নোসর হলো এই নাগাটাইটান। এর ওজন ২৭ টন, যা নয়টি পূর্ণবয়স্ক এশীয় হাতির ওজনের সমান। দৈর্ঘ্যে এটি ২৭ মিটার (৮৮ ফুট), যা ডিপ্লোডোকাস (আরেক প্রজাতির বিশাল ডায়নোসর) ডায়নোসরের চেয়েও বেশি। ওই ডায়নোসরের মতোই নাগাটাইটানও লম্বা গলার তৃণভোজী 'সরোপড' পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।

এক দশক আগে উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের একটি পুকুরের পাশ থেকে এই জীবাশ্মগুলো পাওয়া গিয়েছিল। সেখান থেকেই যুক্তরাজ্য ও থাইল্যান্ডের একদল গবেষক এই নতুন প্রজাতিটি শনাক্ত করেন।

গবেষকেরা বলছেন, প্রাচীন জলবায়ুর পরিবর্তন কীভাবে এত বিশাল আকৃতির ডায়নোসরের বিকাশে সাহায্য করেছিল, সেটি সম্পর্কে জানতে এই আবিষ্কার সাহায্য করবে।

ডায়নোসরটির পুরো নাম 'নাগাটাইটান চ্যায়াফুমেনসিস'। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লোককথায় 'নাগা' মানে সাপ এবং গ্রিক পুরাণে 'টাইটান' বলতে দেবতাদের বোঝানো হয়। আর 'চ্যায়াফুমেনসিস' মানে হলো 'চ্যায়াফুম থেকে আগত'। মূলত যে প্রদেশে এই জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, তার নাম থেকেই এই অংশটি যুক্ত করা হয়েছে।

এই ডায়নোসরটি ১০০ থেকে ১২০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করত। অর্থাৎ বিখ্যাত টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্সের চেয়েও প্রায় ৪০ মিলিয়ন বছর আগে এদের অস্তিত্ব ছিল। আকারে এটি টি-রেক্সের প্রায় দ্বিগুণ।

বিজ্ঞান সাময়িকী 'সায়েন্টিফিক রিপোর্টস'-এ প্রকাশিত এই গবেষণার মুখ্য গবেষক থিতিওত সেথাপানিসাকুল। তিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) একজন থাই পিএইচডি গবেষক।

তিনি বলেন, গবেষকেরা নাগাটাইটানকে থাইল্যান্ডের 'শেষ টাইটান' বা শেষ দৈত্যাকার ডায়নোসর বলে মনে করছেন। কারণ, থাইল্যান্ডে ডায়নোসর বহনকারী শিলাস্তরের মধ্যে সবচেয়ে নবীন শিলাতেই এই জীবাশ্মগুলো পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, 'ডায়নোসর যুগের শেষ দিকে তৈরি হওয়া নবীন শিলাগুলোতে ডায়নোসরের জীবাশ্ম থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ তত দিনে ওই অঞ্চলটি একটি অগভীর সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। তাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আমরা সম্ভবত শেষ বা সবচেয়ে আধুনিক বিশাল সরোপডটিই খুঁজে পেয়েছি।'

নিজেকে 'ডায়নোসর কিড' বা ডায়নোসরের ভক্ত দাবি করা সেথাপানিসাকুল ইউসিএল-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, এই গবেষণার মাধ্যমে তিনি 'একটি ডায়নোসরের নামকরণের শৈশবের স্বপ্নও পূরণ করেছেন'।

নাগাটাইটান হলো থাইল্যান্ডে নামকরণ করা ১৪তম ডায়নোসর। মহাসারখাম ইউনিভার্সিটির জীবাশ্মবিদ ড. সীতা মানিতকুন বলেন, থাইল্যান্ডে ডায়নোসরের জীবাশ্মের ব্যাপক বৈচিত্র্য রয়েছে। ডায়নোসরের দেহাবশেষ প্রাপ্তির দিক থেকে এশিয়া মহাদেশে থাইল্যান্ড 'সম্ভবত তৃতীয় সর্বোচ্চ সমৃদ্ধ দেশ'।

নাগাটাইটান এমন এক সময়ে পৃথিবীতে বিচরণ করত, যখন বৈশ্বিক উষ্ণতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রাও বাড়ছিল।

এই গবেষণার সহ-গবেষক ইউসিএল-এর অধ্যাপক পল আপচার্চ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিককে বলেন, ওই সময়ে সরোপড ডায়নোসরগুলো বেশ বড় আকারের হয়ে উঠেছিল।

তিনি বলেন, 'সরোপডরা যে এত উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পেরেছিল, তা একটু অদ্ভুত মনে হয়। কারণ, বড় শরীর তাপ ধরে রাখে এবং তা দ্রুত ঠান্ডা হওয়া বেশ কঠিন।'

তিনি রয়টার্সকে বলেন, 'সম্ভবত এই উচ্চ তাপমাত্রা উদ্ভিদের ওপর প্রভাব ফেলেছিল। বিশালদেহী তৃণভোজী সরোপডদের বেঁচে থাকার জন্য এই উদ্ভিদগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।'

সূত্র: বিবিসি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন