চীন, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া থেকে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে জাপানের সামরিক সক্ষমতা আরও দ্রুত শক্তিশালী করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি।
মঙ্গলবার প্রকাশিত জাপানের বার্ষিক প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রের ভূমিকায় তিনি বলেন, ‘আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি জরুরি ও সংকটপূর্ণ মনোভাব নিয়ে জাপানকে তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার ও আধুনিকায়ন করা অপরিহার্য।’
তিনি বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শুধু চীন ও উত্তর কোরিয়াই তাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে না, বরং চীন-রাশিয়া এবং রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতাও আরও জোরদার হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, জাপানকে ঘিরে চীনের সামরিক তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে এবং তা তথাকথিত ‘প্রথম দ্বীপমালা’ (ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন) ছাড়িয়ে ‘দ্বিতীয় দ্বীপমালা’ (সেকেন্ড আইল্যান্ড চেইন) পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
এতে ২০২৫ সালের কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের বিমানবাহী রণরির তৎপরতা এবং জুন ও জুলাই মাসে দুই দফায় চীনা সামরিক বিমানের জাপানি বিমানের অত্যন্ত কাছাকাছি চলে আসার ঘটনা।
শ্বেতপত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এক বছরে জাপানের যুদ্ধবিমান ৫৯৫ বার জরুরি ভিত্তিতে উড্ডয়ন করেছে। এর মধ্যে ৩৬৬ বার চীনা এবং ২১৪ বার রুশ বিমানের গতিবিধির প্রতিক্রিয়ায় অভিযান পরিচালিত হয়। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ৭০৪, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় বেশি।
জাপান ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, এশিয়ায় নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণ, দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন, পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন এবং অস্ত্র রপ্তানির নিয়ম শিথিল করার পদক্ষেপ নিয়েছে।
তবে শ্বেতপত্রে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতের সীমাবদ্ধতা ভবিষ্যতে অস্ত্র সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোইজুমি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে জাপান-যুক্তরাষ্ট্র জোটের ‘অটুট’ সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতাও জোরদার করা হচ্ছে, যাতে ‘অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ গড়ে তোলা যায়।
তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত আরও জটিল হয়ে উঠছে। তাই পুরো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।’
এদিকে, জাপানের এই সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির তাইওয়ান-সংক্রান্ত মন্তব্যের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। বেইজিংয়ের অভিযোগ, জাপান আবারও ‘নতুন সামরিকতন্ত্রের’ পথে এগোচ্ছে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


