চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে একসঙ্গে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করায় মামলা করেছে অপমৃত্যুর মামলা করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭ আগস্ট) ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক রুবেল আফ্রাদ সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি করেন। তবে মামলা হলেও দুর্ঘটনার মূল কারণ এখনো জানা যায়নি।
গতকাল ১৭ আগস্ট পর্যন্ত জাহাজের ভিতরে বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতা বেশি থাকায় ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারেনি তদন্তকারীরা। ফলে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি গ্যাসের নমুনাও।
মামলার বাদী পরিদর্শক রুবেল আফ্রাদ জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা করতে না আসায় আমি নিজেই বাদী হয়ে অপমৃত্যুর মামলাটি করেছি। জাহাজভাঙা কারখানায় কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মামলাটিতে কারখানার মালিকপক্ষ বা অন্য কাউকেই আসামি করা হয়নি।
রুবেল আফ্রাদ জানান, সাগরে জোয়ার এলে জাহাজের ভেতরের গ্যাসের তীব্রতা কিছুটা কমে কিন্তু পানি সরে গেলে তা আবার বেড়ে যায়। ফলে মূল ঘটনাস্থলে প্রবেশ করা এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণেই গুরুত্বপূর্ণ আলামত ও গ্যাসের নমুনা সংগ্রহে বিলম্ব হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) সকালে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ফেরদৌস শিপইয়ার্ডে জাহাজের বদ্ধ অংশে কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নয় শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়। একসঙ্গে এতগুলো প্রাণহানির পর শিপইয়ার্ডের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তে এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—শ্রমিকদের প্রবেশের আগে জাহাজটি সম্পূর্ণ গ্যাসমুক্ত করা হয়েছিল কিনা, গ্যাস শনাক্তকরণ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল কিনা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ও জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা ছিল কিনা। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে শ্রমিকদের প্রবেশের অনুমতি এবং নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্বে কারা ছিলেন, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

