তাইওয়ানে এক ব্যক্তি রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের মাধ্যমে স্ত্রীর পরকীয়ার ভিডিও ধারণ করে আদালতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করে জয়ী হয়েছিলেন। তবে গোপনে ভিডিও ধারণের অপরাধে শেষ পর্যন্ত তাকেই পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দ্য সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, টিভিবিএস ও এফটিভি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণের দায়ে ওই ব্যক্তিকে গোপনীয়তা-সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ত্রী অন্য এক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত—এমন সন্দেহ হওয়ার পর স্বামী মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকে রোবট ভ্যাকুয়ামটি চালু করেন। তার দাবি, প্রথমে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার উদ্দেশ্যেই তিনি যন্ত্রটি সক্রিয় করেছিলেন। কিন্তু বাড়ির ভেতরে অন্য এক পুরুষকে দেখতে পেয়ে তিনি রোবটটির ভিডিও ধারণের ফাংশন চালু করেন।
পরে স্বামী তার স্ত্রীর ও ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। তাদের বিরুদ্ধে বৈবাহিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি । আদালত শেষ পর্যন্ত ওই দুজনকে যৌথভাবে ৫ লাখ তাইওয়ানি ডলার (প্রায় ১৫ হাজার মার্কিন ডলার) পরিশোধের নির্দেশ দেন।
এরপর স্ত্রী তার স্বামীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগ, স্বামী তার সম্মতি ছাড়াই ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছেন।
স্বামী ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেন। তবে তার দাবি ছিল, দেওয়ানি মামলায় প্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই তিনি ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন।
আদালত তার এই যুক্তি গ্রহণ করেননি। আদালত বলেন, বৈবাহিক সম্পর্কে আছেই বলেই কোনো ব্যক্তির গোপনীয়তার অধিকারকে অগ্রাহ্য করা যায় না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবহৃত রোবট ভ্যাকুয়ামটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি ক্যামেরার দৃশ্য দেখার সুযোগ দিত। তবে ভিডিও সংরক্ষণের জন্য আলাদাভাবে রেকর্ডিং ফাংশন চালু করতে হতো। রেকর্ডিং শুরু হলে যন্ত্রটি সতর্কবার্তাও দিত।
তবে আদালত দেখতে পান, ওই সতর্কবার্তা সম্পর্কে স্ত্রী অবগত ছিলেন বা ভিডিও ধারণে তিনি সম্মতি দিয়েছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ নেই।
শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত মুহূর্ত রেকর্ড করার অপরাধে স্বামীকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেন।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


