ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজকুঞ্জরা বিসিক শিল্পনগরী নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ফেনী নদীর তীরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এ শিল্পনগরীর কারখানাগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়েছে । প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটছে। শিল্পমালিকদের অভিযোগ, একের পর এক চুরির ঘটনায় শিল্পনগরীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারখানাগুলো থেকে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, মালামাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম চুরি যাওয়ার পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারও চুরি হচ্ছে। রাতের বেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায়, দুর্বৃত্তরা সহজেই শিল্পনগরীতে প্রবেশ করে চুরি করে পালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। চুরির ঘটনায় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ ও একাধিকবার যোগাযোগ করেও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি কারখানা মালিকদের।
একই সঙ্গে শিল্পনগরীর নর্দমাগুলো ভরাট ও ভেঙে যাওয়ায়, ব্যাহত হচ্ছে পানি নিষ্কাশন। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা চলতে থাকায়, অরক্ষিত হয়ে পড়েছে শিল্পনগরীর কারখানাগুলো। এতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগকারী শিল্পমালিকদের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রায় ১৮ একর জায়গার ওপর নিজকুঞ্জরা বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ শিল্পনগরীতে বিভিন্ন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও বর্তমানে অনেক কারখানাই বন্ধ রয়েছে। এখানে মোট ৪০টি শিল্প ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১০ থেকে ১২টি ইউনিটে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। পুঁজির সংকট, ব্যবসায়িক মন্দা, অবকাঠামোগত সমস্যা ও নানা প্রতিকূলতার কারণে বাকি ইউনিটগুলোর অধিকাংশই বন্ধ হয়ে গেছে।
শিল্পমালিকদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নির্জন এলাকাগুলোতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। এতে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও মালিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়।
কারখানা মালিকদের অভিযোগ, শিল্পনগরীকে আরো লাভজনক করা কিংবা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে বিসিক কর্তৃপক্ষের যথেষ্ট উদ্যোগ নেই। দীর্ঘদিনেও পুরোপুরি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ না হওয়ায়, বাইরের লোকজন সহজেই শিল্পনগরীতে প্রবেশ করতে পারে। নিরাপত্তা প্রহরীর স্বল্পতা এবং পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার অভাবও পরিস্থিতিকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে সম্ভাবনাময় এ শিল্প এলাকায় নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে।
বিসিক শিল্পমালিক সমিতির কার্যকরী সদস্য মীর হোসেন বলেন, শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার ৩৯ বছর পার হলেও এখনো পুরোপুরি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ হয়নি। ফলে বছরের পর বছর নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই কারখানা পরিচালনা করতে হচ্ছে মালিকদের। সীমানাপ্রাচীর না থাকায়, শিল্পনগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রায়ই কারখানার মূল্যবান মালপত্র ও পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে।
শিল্পমালিকরা জানান, শিল্পনগরীতে রাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো জোরদার করা প্রয়োজন। নিয়মিত পুলিশি টহল, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হলে চুরির ঘটনা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
শিল্পমালিকদের মতে, একটি শিল্পনগরীতে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকার কথা, তার অনেক কিছুই এখানে নেই। নিরাপত্তার পাশাপাশি পর্যাপ্ত সড়কব্যবস্থা, ড্রেনেজ, সড়কবাতি, পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে বিসিক কর্তৃপক্ষের আরো সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
নিজকুঞ্জরা বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ধারাবাহিক চুরি ও মাদকসেবীদের আড্ডার কারণে বিসিক শিল্পনগরী এলাকা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

