ফেসবুকে মন্তব্যে, ঘরে ঢুকে ছাত্রদল নেতাকে পেটালেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা

ফেসবুকে মন্তব্যে, ঘরে ঢুকে ছাত্রদল নেতাকে পেটালেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা
আহত ছাত্রদল নেতা আবদুল মজিদ বকুল বামে, ডানে ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহমদ।

সিলেটের বিশ্বনাথে ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে ঘরে ঢুকে আবদুল মজিদ বকুল নামের এক ছাত্রদল নেতাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পৌর শহরের টিএনটি রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত বকুল বিশ্বনাথ পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং অভিযুক্ত শামীম আহমদ উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীম আহমদ তার ফেসবুক আইডিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে পোস্ট দিলে মন্তব্যের ঘরে তার পাল্টা জবাব দেন বকুল। এর জেরে বুধবার সন্ধ্যায় বকুলের বাসায় ঢুকে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, হামলার পর শামীম উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিবের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে সেখানে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ভিড় জমালে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্বনাথ পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে উপজেলা ও পৌর ছাত্রদল। পথসভা থেকে অভিযুক্ত শামীমকে গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম রেজা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে শামীমকে গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এদিকে, যে শ্রমিক লীগ নেতার বাসায় শামীম আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেই হাবিবুর রহমানকে পুলিশ আটক করেছে বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়ালেও বিষয়টি পরিষ্কার করেছে প্রশাসন।

বিশ্বনাথ থানার ওসি গাজী মাহবুবুর রহমান শুক্রবার বিকেলে জানান, ছাত্রদল নেতার ওপর হামলার ঘটনায় শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি, তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

আর শ্রমিক লীগ নেতা হাবিবুরকে মূলত তার বিরুদ্ধে থাকা একটি পুরোনো নিয়মিত মামলায় বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করে পরদিন আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন