বটতলায় জমজমাট ক্ষুদ্র ব্যবসা, চন্দ্রনাথের চূড়ায় পর্যটকদের উচ্ছ্বাস

বটতলায় জমজমাট ক্ষুদ্র ব্যবসা, চন্দ্রনাথের চূড়ায় পর্যটকদের উচ্ছ্বাস
চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় বটগাছের ছায়ার নিচে

আঁকাবাঁকা ও উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ, সিঁড়ির পর সিঁড়ি। হাতে বাঁশের লাঠি আর কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ধাপে ধাপে উঠছেন পর্যটকেরা। মাঝপথে কখনো কেউ একটু থামছেন, বসে জিরিয়ে নিচ্ছেন নাম না জানা পাহাড়ি কোনো গাছের ছায়ায়। তবে সমতল থেকে ১২০০ ফুট উঁচুতে চন্দ্রনাথের চূড়ায় পৌঁছানোর পর নিমেষেই হারিয়ে যায় সব ক্লান্তি ও অবসাদ; চোখের পলকে পাল্টে যায় পুরো দৃশ্যপট।

বিজ্ঞাপন

কারণ চূড়ায় রয়েছে এক বিশাল বটতলা। সেই ছায়ায় বসে ক্লান্তি দূর করছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা—কেউ পান করছেন ঠান্ডা ডাবের পানি, কেউ স্বাদ নিচ্ছেন পাহাড়ি বাগানের তাজা পেঁপে ও আনারসের। আর তাদের ঘিরেই সেখানে জমে উঠেছে হরেক পণ্যের ছোট্ট এক বাজার। পাহাড়ের চূড়ায় পর্যটনের বিপুল উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি এখানে গড়ে উঠেছে প্রান্তিক মানুষের জীবিকার এক অনন্য ক্ষেত্র।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রায়হান কবির বলেন, পাহাড়ে ওঠার সময় বেশ কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু চূড়ায় এসে সমুদ্র আর পাহাড়ের এমন দৃশ্য দেখে সব কষ্ট ভুলে গেছি। বটগাছের নিচে বসে ডাবের পানি আর পাহাড়ি পেঁপে খেয়ে ভীষণ স্বস্তি পেয়েছি।

নারায়ণগঞ্জ থেকে পরিবার নিয়ে আসা সাদিয়া রহমান বলেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য এককথায় অসাধারণ। তবে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার দিকে কর্তৃপক্ষের আরও নজর দেওয়া দরকার।

পর্যটকদের এই চাহিদাকে ঘিরেই বটতলায় জমে উঠেছে ক্ষুদ্র ব্যবসার আসর। সেখানে ডাব, পাহাড়ি কলা, তরমুজ, পেঁপে, আনারস ও ঠান্ডা পানি বিক্রি করছেন স্থানীয় তরুণেরা। নিচ থেকে দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে এসব পণ্য চূড়ায় তুলতে হয়। অনেক সময় কাঁধে কিংবা হাতে করে মালপত্র বহন করেন ব্যবসায়ীরা। এতে বাড়তি শ্রম ও খরচ হলেও পর্যটকদের সমাগমই তাদের আয়ের মূল ভরসা।

স্থানীয় বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, মালামাল ওপরের দিকে তুলতে অনেক কষ্ট হয়। তবে পর্যটক বেশি এলে বিক্রিও ভালো হয়। এই সামান্য ব্যবসা দিয়েই সংসারের খরচে সহযোগিতা করতে পারছি।

বটতলার এই ক্ষুদ্র বাজার তাই কেবল পর্যটকদের তৃষ্ণা ও খাবারের চাহিদাই মেটাচ্ছে না, স্থানীয় মানুষের জন্যও তৈরি করছে স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন পথ। বড় ধরনের মূলধন ছাড়াই পর্যটনকে কেন্দ্র করে অনেকের কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।

তবে পর্যটনের এই দ্রুত প্রসারের সঙ্গে বাড়ছে ব্যবস্থাপনার ঝুঁকিও। পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ও খাবারের প্যাকেটে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে স্থানীয় পরিবেশ। চূড়ার দুর্গম অবস্থানের কারণে এসব বর্জ্য সংগ্রহ করে নিচে নামিয়ে আনা বেশ কঠিন। তাই পর্যটকদের সচেতনতার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি।

পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। খাড়া সিঁড়ি, পাথুরে পথ ও পাহাড়ি সড়কে অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যায়। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, দিকনির্দেশনা, জরুরি চিকিৎসা এবং দ্রুত উদ্ধারব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন