ফেনীর সেই ওসির বিরুদ্ধে তদন্তে বিভাগীয় কমিটি

ফেনীর সেই ওসির বিরুদ্ধে তদন্তে  বিভাগীয় কমিটি

ফেনীর দাগনভূঞা থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমানের বিরুদ্ধে মামলা নিতে অস্বীকৃতির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।রোববার থেকে তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে।

এর আগে, গত ৯ আগস্ট জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোরশেদ খান দাগনভূঞা থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পৃথক দুটি ঘটনায় মামলা নিতে অস্বীকৃতির অভিযোগ তদন্ত এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার তিন সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন পুলিশ সুপার।

কমিটিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মু. সাইফুল ইসলামকে প্রধান করে ডিআইও-১ মুহাম্মদ রশীদ ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পরিদর্শক (ক্রাইম) হায়দারকে সদস্য করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মু. সাইফুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তদন্ত চলছে। কিছু বিষয় একান্তই ডিপার্টমেন্টাল বিষয়, এগুলো মিডিয়ায় আসার মতো বিষয় নয়। কী তদন্ত হচ্ছে বা না হচ্ছে, সেটিও আমাদের ইন্টারনাল (অভ্যন্তরীণ) বিষয়। তদন্তে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালত যে বিষয়গুলো বলেছে, সেগুলোই তদন্ত হবে।

ওসিকে প্রত্যাহারে আদালতের নির্দেশের পর তদন্ত কমিটি গঠন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, আমরা যেটিই করি তা দাপ্তরিক বিধি অনুযায়ীই করা হয়। আদালতের আদেশ আমাদের ডিপার্টমেন্টের আলোকেই সম্পন্ন হবে।

এ প্রসঙ্গে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, গত ৯ আগস্ট আদালত দাগনভূঞা থানার ওসিকে প্রত্যাহার ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর ১২ আগস্ট ওই কর্মকর্তা আবার আদালতে হাজির হয়ে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। বিচারক তাকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে আপনার কোনো কাজ নেই।’

পিপি আরো বলেন, আদালত মূলত ওই কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতার বিষয়টি তার দপ্তরকে জানিয়েছে। আদালতের নির্দেশের পর পুলিশ তদন্ত করবে। পুলিশ সুপার তদন্ত সাপেক্ষে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, সেই বিষয়টি আদালতকে অবহিত করবেন।

প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট দেওয়া আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, দাগনভূঞার মমারিজপুর এলাকার বিবি মারজাহান (২৪) তার স্বামী রাকিব হাসান হৃদয়সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে মারধর ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগ করেন। এ নিয়ে থানায় মামলা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে তিনি আদালতে অভিযোগ করেন।

ওই অভিযোগকারীকে পরীক্ষা, তার জবানবন্দি এবং উপস্থাপন করা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখতে পান। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করতে দাগনভূঞা থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই আদেশে আরো বলা হয়, গৃহবধূ মারজাহানের চিকিৎসার কাগজপত্রে মাথায় আঘাতসহ শারীরিক আঘাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। গুরুতর আহত একজন নারীকে পুলিশ উদ্ধারের পরও তার অভিযোগ কেন মামলা হিসেবে নেওয়া হয়নি, তা বোধগম্য নয় বলে আদালত উল্লেখ করেন।

ওইদিন শুনানির সময় আইনজীবীরা একই থানায় আরেক গৃহবধূ তানিয়া আক্তারকে (২২) যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে করা একটি মামলাও গ্রহণ না করার বিষয় আদালতের নজরে আনেন। ওই মামলায় গৃহবধূকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করা হলেও থানায় মামলা নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন