মায়ের মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই বাবাকেও হারাল দুই সন্তান। চলন্ত গাড়ি থামাতে গিয়ে যাত্রীবাহী মিনিবাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল রতন পোদ্দারের (৫৫)। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। এক মাসের ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রী দুজনকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
বুধবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুর জেলা শহরের ধানুকা বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আ. রউফ স্টেডিয়ামের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রতন পোদ্দার শরীয়তপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত গৌরঙ্গ পোদ্দারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেল থেকেই রতন পোদ্দার স্টেডিয়ামের সামনে সড়কে চলাচলকারী গাড়িগুলোকে হাতের ইশারায় সরিয়ে দিচ্ছিলেন। তার এমন কর্মকাণ্ড দেখতে স্থানীয়দের অনেকে সেখানে জড়ো হন এবং কেউ কেউ ভিডিও ধারণ করছিলেন।
সন্ধ্যার পর শরীয়তপুর আন্তজেলা বাস মালিক সমিতির একটি মিনিবাস দ্রুতগতিতে ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় রতন গাড়িটিকে হাতের ইশারা দেন। এ সময় বাসটি তাকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত চলে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ধাওয়া করে বাসটি ও চালককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
এক মাস আগে স্ত্রী, এবার স্বামী
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রতন পোদ্দারের স্ত্রী। স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন রতন। ধীরে ধীরে তার মানসিক ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়।
রতন ও তার স্ত্রীর তিন সন্তান। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট দুই সন্তান বাবার ওপর নির্ভরশীল ছিল। মায়ের মৃত্যুর এক মাসের মধ্যেই বাবাকেও হারিয়ে এখন তারা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।
নিহতের প্রতিবেশী শহিদুল ইসলাম ঢালী বলেন, রতন পোদ্দারের স্ত্রী মারা গেছেন মাসখানেক আগে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন।
আজ সড়ক দুর্ঘটনায় তিনিও মারা গেলেন। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট দুই সন্তানকে দেখার মতো এখন আর কেউ রইল না। আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার বিচার হোক। পাশাপাশি বাচ্চাগুলোর ভবিষ্যতের জন্য একটি ব্যবস্থা করা হোক।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ইতোমধ্যে বাস ও চালককে আটক করা হয়েছে। যেহেতু ভুক্তভোগী মারা গেছেন, তাই এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-9a804b-720x405.webp)