আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

অভিবাসী পাচার দমনে কঠোর আইন আনছে গ্রিস

আমার দেশ অনলাইন

অভিবাসী পাচার দমনে কঠোর আইন আনছে গ্রিস

গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রণালয় অভিবাসী চোরাচালানের বিরুদ্ধে শাস্তি আরও কঠোর করতে পার্লামেন্টে একটি নতুন বিল উত্থাপন করেছে। প্রস্তাবিত আইনে পাচারকারীদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে আজীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এথেন্স থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ২০১৫ সালের ইউরোপীয় অভিবাসন সংকটের সময় সিরীয় শরণার্থীদের ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ ছিল গ্রিস। সে সময়ের প্রেক্ষাপটে দেশটিতে মানব পাচারের অভিযোগে অভিবাসী ও সহায়তাকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এখনো চলমান রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে অভিবাসী পাচারের সঙ্গে জড়িত অপরাধের শাস্তি সব পর্যায়ে কঠোর করা হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে পাচারকারীদের আজীবন কারাদণ্ড হতে পারে এবং অপরাধে জড়িত অভিবাসীদের সরাসরি দেশ থেকে বহিষ্কার করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিল অনুযায়ী, বৈধভাবে বসবাসকারী কোনো অভিবাসী যদি অনিয়মিত অভিবাসীদের সহায়তা করেন, সেটিও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভ্রিস, যিনি আগে একটি অতি-ডানপন্থী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এই আইন প্রস্তাবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এ ছাড়া অভিবাসী পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এনজিও কর্মীদের বিরুদ্ধেও শাস্তি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। আগামী সপ্তাহে সংসদে বিলটি পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

তবে প্রস্তাবিত আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ৫৬টি এনজিও। ডক্টরস অব দ্য ওয়ার্ল্ড ও ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের গ্রিস শাখাসহ এসব সংগঠন যৌথ বিবৃতিতে কিছু ধারা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, কোনো সদস্য অভিযুক্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও কয়েক হাজার ইউরো জরিমানার বিধান উদ্বেগজনক।

এনজিওগুলো আরও অভিযোগ করেছে, নতুন আইনে মন্ত্রণালয়কে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে কোনো সংগঠনের সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই—দোষ প্রমাণ না হলেও—সংগঠনের নিবন্ধন বাতিল ও কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, এই আইনের মাধ্যমে বৈধ অভিবাসন উৎসাহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তৃতীয় দেশের শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা, হাই-টেক খাতে কর্মীদের জন্য নতুন ভিসা চালু এবং উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মেয়াদজুড়ে আবাসিক অনুমতি প্রদান।

এ ছাড়া আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের নির্মাণ, কৃষি ও পর্যটনের মতো শ্রমঘাটতিপূর্ণ খাতে যুক্ত করতে পেশাগত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর কথাও জানানো হয়েছে।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...