কোচিং-টিউশন বাণিজ্য ঠেকাতে আইডিয়ালে বড় রদবদল

কোচিং-টিউশন বাণিজ্য ঠেকাতে আইডিয়ালে বড় রদবদল

কোচিং, ভর্তি ও টিউশন বাণিজ্যের সিন্ডিকেট ভাঙা, দীর্ঘদিনের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ এবং বিভিন্ন শাখায় শিক্ষক সংকটের ভারসাম্য আনতে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৪৬ শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। গত রোববার প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সম্মতিক্রমে এসব শিক্ষককে এক শাখা থেকে অন্য শাখায় বদলি করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বদলির পেছনে মূলত তিনটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, কোনো শিক্ষক দীর্ঘদিন একই শাখায় অবস্থান করে কোচিং, ভর্তি ও টিউশন বাণিজ্যসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ যেন না পান, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে একই শাখায় কর্মরত শিক্ষকদের কাজের পরিধি ও গতিশীলতা বাড়াতে তাদের অন্য শাখায় দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, মতিঝিলের মূল শাখায় তুলনামূলকভাবে শিক্ষক বেশি থাকলেও বনশ্রী ও মুগদা শাখায় শিক্ষক সংকট ছিল। ফলে তিন শাখার মধ্যে শিক্ষকসংখ্যায় ভারসাম্য আনতেও এ বদলি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, বদলি হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে কেউ কেউ স্বেচ্ছায় তদবির করে অন্য শাখায় গেছেন। তবে দীর্ঘদিন একই শাখায় অবস্থান, কোচিং বা টিউশন বাণিজ্য এবং শাখাভিত্তিক শিক্ষক সংকটের বিষয়গুলোও বদলির সিদ্ধান্তে বিবেচনায় এসেছে।

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবীর দুলু আমার দেশকে বলেন, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কোনো শাখায় একজন শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ তিন বছর পূর্ণ হলেই তাকে অন্য শাখায় বদলি করা উচিত। এ নিয়ম সবার ক্ষেত্রে সমভাবে কার্যকর করা গেলে দীর্ঘদিন একই শাখায় থেকে কোচিং, ভর্তি ও টিউশন বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ কমবে।

তিনি বলেন, ক্ষমতার কারণে কেউ বদলি হবেন আর কেউ একই জায়গায় থেকে যাবেন, এমন বৈষম্য করা যাবে না। সবার জন্য একই নিয়ম কার্যকর করতে হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত, মনিটরিং জোরদার এবং শিক্ষা-বাণিজ্য বন্ধ করতে তিনটি ক্যাম্পাসে কর্মরত ১২ জন সহকারী প্রধান শিক্ষককেও দ্রুত বদলি করা প্রয়োজন। এক ক্যাম্পাসের সঙ্গে অন্য ক্যাম্পাসের শিক্ষকদের সমন্বয় করে বদলি করা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ বলেন, প্রশাসনিক সংস্কার ও সমন্বয়ের অংশ হিসেবেই শিক্ষকদের বদলি করা হয়েছে। বদলি হওয়া শিক্ষকরা পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে মতিঝিল শাখায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন। দীর্ঘদিন একই শাখায় থাকার কারণে যে সিন্ডিকেট তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে, তা ভাঙতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিনটি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে মতিঝিল মূল শাখা । বাকি দুটি শাখা বনশ্রী ও মুগদায়। তিন শাখায় প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ৭০০ জন। এছাড়া কর্মচারীর সংখ্যা দুই শতাধিক।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন